যুগোপযোগী শিক্ষা ছাড়া উন্নত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৩:৪১
অ- অ+

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ বলেছেন, "বিশ্ব যেখানে পঞ্চম শিল্পবিপ্লব ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর মতো প্রযুক্তির দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে, সেখানে আমরা এখনও মান্ধাতা আমলের সিলেবাস নিয়ে পড়ে আছি। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগের উপযোগী করতে আমরা কাজ করছি।”

শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ের ইকো কলেজে বিএড, বিপিএড, বিবিএ এবং সিএসই-এর প্রফেশনাল ও অনার্স কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার ছাড়া দেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের যা শেখানো প্রয়োজন, আমরা তা শেখাতে পারিনি। বর্তমান সিলেবাস দিয়ে আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলার কথা বলছি, অথচ বিশ্ব পঞ্চম শিল্পবিপ্লব ও পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল সমাজের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।"

​শিক্ষায় আধুনিকায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ বলেন, “আজকে চীন, সিঙ্গাপুর, জাপান, মালয়েশিয়া বা ইরানের মতো দেশগুলো শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। শিক্ষা খাতে ১ ডলার বিনিয়োগ করলে এক প্রজন্ম পর তার রিটার্ন আসে ৩০০ গুণ-এই দর্শন তারা গ্রহণ করায় তারা এতো উন্নত। এক সময় ইরানে বাংলাদেশি চিকিৎসক ছাড়া চিকিৎসাসেবা কল্পনা করা যেত না। অথচ আজ সেই ইরানেই আমাদের চাকরির জন্য যেতে হয়। এর অন্যতম কারণ, আমরা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারিনি। আমরা বিল্ডিং তৈরিতে নজর দিয়েছি। শিক্ষার গুণগত মান ও ল্যাব সুবিধার দিকে নজর দেইনি। সঠিক পাঠ্যক্রম ও টেকসই বিনিয়োগের অভাবেই আমাদের শিক্ষা বিশ্বমানের হয়ে উঠতে পারছে না।”

​কারিগরি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার বিশৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “যত্রতত্র অনার্স-মাস্টার্স ও প্রফেশনাল কোর্স খোলা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ল্যাব সুবিধা পর্যন্ত নেই। ল্যাব ছাড়াই রসায়ন বা বায়োলজিতে অনার্স পড়ানো হচ্ছে। এমনকি আধুনিক বিষয় ‘এআই’ (AI)-এ অনার্স খোলার আবেদন আসছে, যার জন্য কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ ও উপযুক্ত অবকাঠামো প্রয়োজন। ল্যাব বা সক্ষমতা ছাড়া কোনো কোর্স চালানো আর চলবে না।' গত এক দশকে কারিগরি শিক্ষায় ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ হলেও সঠিক সমন্বয় ও জবাবদিহিতার অভাবে এর যথাযথ সুফল পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেন ভিসি।

​আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদার উদাহরণ দিয়ে ভিসি জানান, সম্প্রতি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাঁর কাছে ২৮ হাজার হোটেল ম্যানেজমেন্ট গ্র্যাজুয়েট চেয়েছিল, যেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছরে তৈরি হয় মাত্র ৪০০ জন। সঠিক বাজার চাহিদা অনুধাবন করে কোর্স চালুর ওপর জোর দেন তিনি।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, "আজ সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু আয় প্রায় ৯৬ হাজার মার্কিন ডলার। চীন বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসাসেবার জন্য আমাদের মানুষ ব্যাংককে যাচ্ছে। অথচ স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।"

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "সময়ের বাস্তবতা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মমুখী করে পুনর্গঠন করতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে না।"

কলেজের অধ্যক্ষ সেলিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ইস্রাফিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, ইকো কলেজের সভাপতি ড. মো. শহিদ উজ জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার, প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
নারকেলের ছোবড়া থেকে কোকোপিট তৈরি করছেন আনসার-ভিডিপি সদস্য
হঠাৎ মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রাজধানী, কাফরুলে বাসে আগুন
ফরিদপুরে পুলিশের জব্দ করা বাসে আগুন