বাড়িতে জায়গা হয়নি, জঙ্গলে শিকলবন্দি আজাদ

আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ৩০ মে ২০১৭, ১২:০০

দশ বছরে ধরে পায়ে শিকল আজাদের। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বাড়িতে আশ্রয় হয়নি তার। বাড়ির পেছনে জঙ্গলের ভেতরে কাটছে তার জীবন। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে আজাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্যাঁতসেঁতে অসাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে জঙ্গলের ভেতরে বিবস্ত্র অবস্থায় শুয়ে আছেন তিনি। পাশেই বিশাল প্রাচীর ঘেরা বাড়ি। কিন্তু সেখানে তার থাকার মত জায়গা হয়নি।

পরিবারের দাবি, আজাদ একজন মানসিক রোগী। তাকে বেঁধে না রাখলে মানুষের উপর চড়াও হয়, কামড় দিয়ে জখম করে। তবে এলাকাবাসী বলছেন, আজাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে তার এ অবস্থা। তাকে সঠিক চিকিৎসা ও তার প্রতি যত্নবান হলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে।

হরিপুর গ্রামের আবতাব উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে আজাদ আলী ১০ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের  কয়েক মাস পর তাকে ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যায় স্ত্রী। 

আজাদ আলীর বর ভাই আফতাব উদ্দীন জানান, ‘সে দীর্ঘ দশ বছর থেকে অসুস্থ। পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করেছি। কিন্তু ডাক্তাররা বলেছেন সে আর ভালো হবে না। এরপর বিভিন্ন কবিরাজকে দেখানো হয়েছে। তারা বলেছেন, আজাদের ওপর জিনের দৃষ্টি পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শিকল খুলে দিলে মানুষের উপর চড়াও হয়, কামড় দিয়ে জখম করে, মানুষকে মারতে চায়। তাই শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। তবে বাড়ির ভেতরে না রেখে বাড়ির বাইরে জঙ্গলে রাখার কারণ জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি আজদের বড় ভাই আফতাব উদ্দীন।

আজাদ আলীর ছোট ভাবি জানান, দ্বিতীয়বার পাবনায় রেখে আসার পর সেখানে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে ফেলে এবং মারামারি করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আর রাখেনি।  শরীরে কাপর রাখতে চায় না। কাপড় দিলে তা ছিড়ে ফেলে। মাঝখানে ভালো ছিল।

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

(ঢাকাটাইমস/৩০মে/প্রতিবেদক/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত