ফখরুল চুপ কেন, বিক্ষুব্ধ কর্মীদের স্লোগান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০২ | প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:২০

বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচির দাবিতে কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে সামনে পেয়ে তার উপরও ক্ষোভ ঝেড়েছেন নেতাকর্মীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল বিএনপি।

এ সময় কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে জানতে চান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি নেই কেন? মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতারা চুপ কেন?

আলোচনায় সভাপতিত্ব করছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অন্যান্য সময় বিএনপির এই ধরণের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে হল রুম ভরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসহ অন্যান্য ভেন্যু প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ এবারের কর্মসূচিতে হল রুমের অনেক চেয়ার খালি ছিল। যা নিয়ে শুরু থেকেই আগত নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে কানাঘুষা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতেছিলেন।

এরই মধ্যে মওদুদ আহমদ বক্তব্য দিতে শুরু করলে দর্শক সারিতে বসা এক কর্মী হঠাৎ বলে ওঠেন ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’।

এ সময় বক্তব্য দিতে থাকা মওদুদ বলেন, ‘কী?’। তখন আরেক কর্মী বলেন, ‘কর্মসূচি নাই কেন?’, ‘হল খালি কেন?’, ‘নেতাকর্মীরা আসেনি কেন?’, ‘এত নেতাকর্মী সবাই জানেনি কেন আজকের প্রোগ্রামের কথা?’।  এরপর বেশকিছু নেতাকর্মী স্লোগান দিতে থাকেন। এতে মওদুদের বক্তব্য বাধাগ্রস্ত হয়। পরে নেতাকর্মীদের স্লোগান থামলে তিনি কথা শেষ করেন।

এ সময় একজনকে বিএনপির কমিটি ভেঙে দেয়ার দাবি করে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মূলত নেতাকর্মীদের বেশিরভাগের ক্ষোভ ছিল বিএনপি মহাসচিবের উপর। তিনি বক্তব্য দিতে শুরু করলে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি নেই কেন, ভোট ডাকাতির নির্বাচন হলো মহাসচিব রহস্যজনকভাবে চুপ কেন এমন প্রশ্ন করেন।

কর্মীদের এমন আচরণে কিছু সময়ের জন্য সভার পরিবেশ বদলে যায়। বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য থেমে যান ফখরুল।

পরে মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন, এটা মনে করছেন কেন? আপনারা ব্যর্থ হননি। সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তারা ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসেছে। বিশ্বের সবাই তা দেখেছে।’

নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কর্মসূচি হবে, ধৈর্য ধরেন। কর্মসূচি যে দেব তা তো আপনাদের পালন করতে হবে। ধৈর্য ধরেন, সব কিছুই হবে। আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। এখানে বসে চিৎকার করলে হবে না।’

‘আপনাদের যে ক্ষোভ-ব্যথা সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু একটা কথা আপনাদের সবসময় মনে রাখতে হবে- ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যখন গণতন্ত্র লড়াই করে তখন এত সহজে সফল অর্জন করা যায় না।

আন্দোলনে নিজেদের ব্যর্থতা মানতে নারাজ ফখরুল। বলেন, ‘আপনারা কেন ভাবছেন আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। আপনারা কখনোই ব্যর্থ হননি। আজকে আপনারা বিজয়ী হয়েছেন। আমি আপনাদের এইটুকু বলতে চাই, কখনোই মনের জোর হারিয়ে ফেলবেন না।’

‘আজকে আমাদের ক্ষোভের সঙ্গে বলতে হয়। আমরা এমন একটা অবস্থার মধ্যে বিরাজ করছি যা জাতির জন্য কলঙ্কময় অধ্যায় সৃষ্টি হয়েছে। এত বড় সঙ্কট জাতির সামনে কখনো এসেছে বলে আমার জানা নেই।’

নেতা-কর্মীদের ভরসা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না আমরা দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে এসেছি। আমাদেরকে এই লড়াই আরও সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। এই লড়াইয়ে আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

‘আজকে আপনারা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ শক্তি। তারা গণতন্ত্রের কথা শুধুই মুখেই বলে বিশ্বাস করে না। এরা গণতন্ত্রকে বারবার হত্যা করেছে। এই ফ্যাসিবাদ শক্তিকে মোকাবেলা করার জন্য অবশ্যই আমাদের সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এবং সংগ্রাম সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য যিনি সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন, তিনি আজ কারাগারে। আজকে আমি জেলগেট পর্যন্ত দিয়ে ফিরে এসেছি। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। তাকে জেলে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণের তাদের বিচার হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ।

(ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/বিইউ/ডব্লিউবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :