পুঁজিবাজারে ব্যাংকের আকর্ষণীয় মুনাফা

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০৮:৩৪

ব্যাংক খাত নিয়ে নানা নেতিবাচক কথাবার্তার মধ্যেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো আকর্ষণীয় মুনাফা করেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ২৪টির মুনাফায় বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়।

২০১৮ সালের প্রথমার্ধে ৫০ শতাংশ ও ২০১৭ সালের একই সময়ে ছিল ৬২ শতাংশ ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছিল। সেই হিসাবে গত দুই বছরের তুলনায় চলতি বছর ব্যাংকগুলো আরও ভালো করছে।

২০১৮ সালের প্রথমার্ধে তিনটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দুই টাকার বেশি হলেও এবার তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে তুই টাকার ওপরে ইপিএস অর্জন করা ব্যাংকগুলো হলো ডাচ বাংলা, উত্তরা, সাউথ ইস্ট, ইসলামী, ব্র্যাক ও পূবালী ব্যাংক।

তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোতে বছরের তিন মাস অন্তর মুনাফার হিসাব প্রকাশ করতে হয়। জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত হিসাব এরই মধ্যে পুঁজিবাজারে প্রকাশ হয়েছে।

ব্যাংক খাতের মুনাফায় উত্থান শেয়ারবাজারের জন্য সুখবর হিসেবেই ধরা হয়। কারণ, ব্যাংকের শেয়ারের দাম উঠানামায় বাজারের মূল্য সূচকে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। আর এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো স্বাস্থ্য বাজারের জন্য ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘ব্যাংক খাতের মুনাফায় উত্থান শেয়ারবাজারের জন্য সুসংবাদ। এতে হয়তো বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা হলেও আস্থা ফিরে আসবে, যা শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আর ব্যাংক খাত যেহেতু শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় খাত, তাই এই খাতের উত্থান-পতনে সূচকে বড় প্রভাব পড়ে।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবীদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামও কিছুটা বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর ইপিএসে এই উত্থান কীভাবে হয়েছে, সেটা আমার কাছে বোধগম্য না। কারণ, একদিকে ব্যাংকগুলো বলছে তাদের তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের মাত্রা বেড়েছে। অন্যদিকে ইপিএস বাড়ছে।’ ‘এখন দেখার বিষয় প্রভিশনিং ঘাটতি ও ট্যাক্স কম দেখানো হয়েছে কি না। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের শুধু ইপিএস না দেখে, অন্যান্য সূচক (ইন্ডিকেটর) যাছাই করে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

শেয়ারপ্রতি আয়ে এগিয়ে পাঁচ ব্যাংক

চলতি বছরের প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের। এই সময়ে তাদের ইপিএস হয়েছে তিন টাকা ৮৩ পয়সা। ১৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণার পরও ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইপিএস হয়েছে উত্তরা ব্যাংকের, দুই টাকা ৫০ পয়সা। গত বছর একই সময় যা ছিল এক টাকা ৩৫ পয়সা। অর্থাৎ তাদের আয় বেড়েছে ৮৫ শতাংশ।

দুই টাকা ২৫ পয়সা ইপিএস নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। যা গত বছরের প্রথম ছয় মাসে ছিল এক টাকা দশমিক ৩৭ টাকা।

পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে দুই টাকা ১৬ পয়সা, গত বছর একই সময় যা ছিল দুই টাকা ১১ পয়সা।

ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে দুই টাকা ৫ পয়সা, গত বছরের একই সময় ছিল এক টাকা ৮৮ পয়সা। অর্থাৎ এই ব্যাংকটিরও মুনাফা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংকেরও চলতি বছরের প্রথমার্ধে দুই টাকা পাঁচ পয়সা ইপিএস হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এই প্রতিষ্ঠানের আয় কিছুটা কমেছে। গত বছরের একই সময়ে এর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল দুই টাকা ১৭ পয়সা।

প্রবৃদ্ধিতে সবার সেরা এক্সিম

২০১৯ সালের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি হারে ইপিএস বেড়েছে এক্সিম ব্যাংকের। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তুলনায় ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ৩৩১ শতাংশ। বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫৬ পয়সা। ২০১৮ সালের একই সময়ে ছিল মাত্র ১৩ পয়সা।

আইএফআইসি ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫৯ শতাংশ। অর্ধবার্ষিকীতে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে এক টাকা এক পয়সা। গত বছর যা ছিল ৩৯ পয়সা।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেও মুনাফাতেও শতভাগের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৮ সালের প্রথামার্ধে শেয়ারপ্রতি আয় ৪২ পয়সা হলেও এবার হয়েছে ৯৫ পয়সা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ১২৬ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধিতে ভালো করেছে ট্রাস্ট ব্যাংকও। বছরের প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি আয় দেখিয়েছে এক টাকা দশমিক ৭৭ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যা ছিল ৯৮ পয়সা।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রথমার্ধে ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৩৪ পয়সা, গত বছর ছিল ৮৪ পয়সা। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে এক টাকা ২৪ পয়সা, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে যা ছিল ৯২ পয়সা মাত্র।

সিটি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৯১ পয়সা, গত বছর ছিল এক টাকা ৪৪ পয়সা। ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৬ পয়সা যা গত বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৪ পয়সা।

এনসিসি ব্যাংক প্রথমার্ধে ইপিএস করেছে এক টাকা ৩১ পয়সা, গত বছর যা ছিল এক টাকা। প্রাইম ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৯০ পয়সা, গত বছর একই সময়ে যা ছিল ৭০ পয়সা।

ওয়ান ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫১ পয়সা, গত বছরের একই সময় যা ছিল ৪০ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৯৫ টাকা, গত বছর ছিল এক টাকা ৫৫ পয়সা।

আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫১ পয়সা, গত বছর একই সময় ছিল ৪২ পয়সা। যমুনা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৭৮ পয়সা, গত বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৫২ পয়সা।

ইউসিবির ইপিএস হয়েছে এক টাকা ১৫ পয়সা, গত বছর যা ছিল এক টাকা ৫ পয়সা। ঢাকা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৭৬ পয়সা, যা গত বছর একই সময় ছিল ৭০ পয়সা। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৭৯ পয়সা, গত বছর একই সময় যা ছিল এক টাকা ৬৯ পয়সা।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে দশমিক ৩৯ টাকা, গত বছর ছিল দশমিক ৩৭ টাকা। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৪১ পয়সা, গত বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৩৬ পয়সা।

ভালোর মধ্যেও খারাপের পথে যারা

অর্ধবার্ষিকীর মুনাফার হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বছরের প্রথমার্ধে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সবচেয়ে খারাপ করেছে দুই বছর ধরে লভ্যাংশ দিতে না পারা এবি ব্যাংকের। ব্যাংকটির ৬২ শতাংশ ইপিএস কমেছে।

ইপিএস দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ কমেছে রূপালী ব্যাংকের। ১৬ শতাংশ কমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ১০ শতাংশ কমেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এবং পাঁচ শতাংশ ইপিএস কমেছে ব্র্যাক ব্যাংকের।

অন্যান্য বছরের ন্যায় ২০১৯ সালের প্রথমার্ধেও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের লোকসান হয়েছে। তবে এ বছর ব্যাংকটির লোকসান ছয় শতাংশ কমে ইপিএস হয়েছে ঋণাত্মক ২৯ পয়সা।

ঢাকাটাইমস/৫আগস্ট/আরএ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :