করোনার দিনপঞ্জি: চামামার সঙ্গে আলাপ

সালাহ্ উদ্দীন পল্লব
| আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১১:৩১ | প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০২০, ১১:১০

#চামামা_কোয়ারেন্টাইন_ডে_০১

: হ্যালো মামু, ফুন ধরতে এতো দেরি ক্যান?

: চামামা! কোথায় তুমি?

: আমি ঘরে বইসা বিটিভি দেখতাছিলাম হটাৎ একখান গল্প মনে হইলো আর আম্নেরে কল দিলাম।

: কী গল্প?

: একবার এক ভ্যানগাড়ি ওয়ালার ভ্যান উল্টাইয়া গেলো। গাড়ির মইধ্যে আছিলো অনেক লিটার গরুর দুধ। পুরা রাস্তা ভাইসা গেলো দুধে। ভ্যান ওয়ালা মাতায় হাত দিয়া মাটিতে বইসা কান্তাছে। পাবলিক জইমা গেলো পুরা। অনেক পাবলিক। সবতে আফসুস করতাছে। অইসুমে হটাৎ এক সরল সুজা লুক আইসা ভ্যান ওয়ালারে কইলো, ভাই তুমার গাড়ির তো কিছুই হয়নাই কিন্তুক দুধের মালিকরে তো তোমার জরিমানা দেওন লাগবো। আমি ভাই গরীব মানুষ তোমারে ইট্টু সাহাইয্য করতে চাই, এই লও ৫০ ট্যাকা। দেখো যদি আরো কিছু ম্যানিজ করতে পারো...

: হু, তারপর?

: ওইখানে খাড়ানি আরো মানুষ লগে লগে যে যা পারে সাহাইয্য করার জইন্য তারে টেকা দিলো। কয়েকজন পয়সাওলা লুক ও আছিলো তারা কয়েকশ কইরা টেকা দিছে। অনেক টেকা জমলো। আস্তে আস্তে সবাই টেকা দিয়া চইল্যা গেলো। শুধু একজন চইল্যা যাওনের সুমায় কইলো, ভ্যানওয়ালা ভাই, পরথম যে টেকা দিছিলো তার জইন্য দুয়া কইরেন। ভ্যানওয়ালা কইলো, দুয়া কইরা কি হইবো? হেই ব্যাডা এই দুধের মালিক!

: হা হা হা হা হা......

: হাসেন মিয়া? এই ঘটনার লগে কিছু মিল পাননা?

: কিসের মিল?

: দুধ হইলো দ্যাশ, টেকা দেওয়া পাবলিক হইলো বিদ্যানন্দ, এক টাকার আহার, মাক-ইসিপেনসার দুধের মালিক হইলো সরকার! কিছু টের পান!!!

: আরে ধুর! ফোন রাখো তো! কিসের মধ্যে কি মিল খুজে পাও! আজব! আমি তো কিছুই বুঝলাম না!

: কাম নাই আম্নের বুঝনের। আম্নে আগে বিলিচিং পাওডার দিয়া বিরেন সাফ করেন। আম্নের ওইডাই প্রয়োজন! রাখলাম।

#প_লয়ে_লয়_ব ২৬ মার্চ, ২০২০

#চামামা_কোয়ারেন্টাইন_ডে_০২

: কিরটিব মামুউউউউ.... আরে ও মামুউউউউ..... বারান্দায় আসেন মিয়া!

: তুমি বাসা থেকে কেনো বের হয়েছো?

: বাইর কি আর শখ কইরা হইছি? দুকানডা এক নজর দেইখা আইলাম। চাইর পাশে অনেক পিপড়া বাসা বানছে।

: আর বলোনা! দুইদিনেই হাঁপিয়ে উঠেছি। আরো আগে যদি এয়ারপোর্টটা বন্ধ করা যেতো তাহলে আর আমাদের টানা ১০ দিন এভাবে......

: এই তো মিয়া লাইনে আইছেন! পিপড়া কেম্নে মারন লাগে কইতে পারবেন?

: কিভাবে আবার! কোন কিছু দিয়ে বাড়ি দেও, নাহলে ওষুধ বা আগুন দাও ব্যাস একবারে শেষ!

: এইখানেই তো মুশকিল! সরকার পিপড়া কেম্নে মারতে চাইছে জানেন?

: কিভাবে?

: পরথমে চিনির লগে মরিচের গুড়া মিশায় দিছে যাতে পিপড়া সেইটা খাইয়া পানি খুজে। খুইজা খুইজা পানির বালতিতে পইরা গেলে হের গা ভিইজা যাইবো হেরপরে গা শুকাইতে আগুনের কাছে যাইবো, আগুন গায়ে লাইগা পিপড়া আহত হয়ে হাস্পাতালে যাইবো, ওইখানে হের মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিলেই পিপড়া মইরা যাইবো!

: এর মানে কি দাড়ালো?

: কি আবার? এয়ারপোর্ট খুলা, দেশে কিট নাই, আগাম ঘুষনা দিয়া ছুটি, সবাই দলবাইন্ধা ছুটলো বাড়িতে, গাড়ি বন্ধ, দেশ বন্ধ, এই সব কইরা করোনারে আগুনের কাছে আনার ব্যাবস্থা চলতেছে। একবারে বাড়ি দিয়া এয়ারপোর্ট বন্ধ করলেই আর এতো কিছু লাগতো না! যাইহোক, এডি কইয়া আর লাভ নাই। আম্নে বইয়া মাতা চুল্কান আর আমি বাড়িত যাই।

#প_লয়ে_লয়_ব ২৭ মার্চ, ২০২০

#চামামা_কোয়ারেন্টাইন_ডে_০৩

: হ্যালু মামু, ঘুমাইছেন নিকি?

: এই! তোমার কি মামীর সাথে কোন কাজ নাই? এমন রাতে কল দিয়েছো?

: রাগ হইয়েন না, একটা দুস্ট গল্প মনে আইলো বইলা আম্নেরে কল দিছি!

: উফ্! তোমার গল্প.... জলদি বলো!

: একবার এক পাগলাগারদে এক নার্স আইসা এক পুরুষ রুগিরে কইলো, এই, আমার শাড়ি খুলো!

: ছি ছি চামামা! এসব কি?

: আরে মিয়া হুনেন। পাগল রুগি নার্সের দিকে চোখ বড় বড় কইরা চাইয়া রইলো। নার্স আবার কইলো, খুলোনা.. আমার শাড়ি খুলো। পাগলে শাড়ি খুললো। এর পর নার্সে কইলো এইবার আমার বিলাউজ খুলো!

: চামামা, চুপ করো!

: আরে মিয়া হুনেন! পাগল মজা পাইয়া গেলো! পাগলে বিলাউজ ও খুললো। হের পরে নার্স কইলো, আমার পেটিকুট খুলো। পাগল দেরি না কইরা এইডাও খুললো।

: চামামা... এনাফ! ফোন রাখলাম...

: আরে আরে আর ইট্টু বাকি। তা যা কইতাছিলাম। পাগলে একে একে শাড়ি, বিলাউজ আর পেটিকুট খুললো! হের পরে নার্স কইলো, আর কুনো দিন যদি দেখছি আমার জামা-কাপড় গায়ে দিছো.....

: এটা কি হলো! হ্যা?

: ক্যান! আম্নে এতক্ষন কি ভাবছেন!

: এই গল্প কেনো বললে?

: কি করুম! এক ম্যাডামে তিন বুড়ারে কানে ধরাইয়া দ্যাশ আর সরকারের শাড়ি বিলাউজ খুইল্যা লইলো আর পাব্লিকে ভাবতাছে এডি কইরা করোনা দুর হইবো? আম্নেগো মতন পড়ালিখা লুকেরা বদনার পানি পাওয়ার যুগ্যতাও রাখেন না মিয়া! লন রাখলাম ফুন!

২৮ মার্চ, ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত