গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণের উপায় আমার জানা: কিরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১৯:৪৪

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় ভাসছেন আসাদুর রহমান কিরণ। শুভেচ্ছার জবাব দিতে গিয়ে নেতাকর্মীদের তিনি বলেছেন, গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা তার জানা আছে। মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মধ্যে কাউন্সিলর ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিটি করপোরেশনের বেহাল দশার সমাধান করবেন। দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন।

বেশ কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বরখাস্ত হওয়া জাহাঙ্গীর আলমের নাম। আওয়ামী লীগের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার হওয়ার পর তাকে মেয়রের পদ থেকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন দুই যুগের বেশি সময়ের জনপ্রতিনিধি আসাদুর রহমান কিরণ।

দলীয় ও মেয়র পদ হারানোর পর গাজীপুরে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে কোথাও দেখা নেই জাহাঙ্গীর আলমের। সুনসান নীরব তার বাড়ি। অন্যদিকে মানুষের আনাগোনায় সরব আসাদুর রহমান কিরণের বাড়ি। উচ্ছ্বসিত তার সমর্থকরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে যখন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে কিরণের দায়িত্ব পাওয়ার সিদ্ধান্ত আসে, তখন পুরো গাজীপুরে শুরু হয়ে যায় আনন্দ মিছিল। মিষ্টি বিতরণ করেন কিরণের কর্মী-সমর্থকরা। কাউন্সিলর থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র কিরণের টঙ্গীর বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। ঢাকঢোল পিটিয়ে নেচে-গেয়ে, আতশবাজি ফুটিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন তারা। কিরণ তখন ছিলেন ঢাকার সচিবালয়ে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে দলের নেতাকর্মী ও কিরণের সমর্থকরা পাগাড়ের বাসভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। রাত ১১টায় বাসভবনে এসে পৌঁছান কিরণ। এ সময় মোটরসাইকেল বহর নিয়ে নেচে-গেয়ে ও আতশবাজি ফুটিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাকে। একে একে ফুল দিয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র কিরণকে সংবর্ধনা জানান শত শত মানুষ।

রাত ১২টায় নেতাকর্মীদের নিয়ে টঙ্গী বাজার এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের বাসায় যান ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ। সেখানে তিনি আজমত উল্লাহ খানকে সালাম করেন। কুশল বিনিময় ও ফুলেল শুভেচ্ছা শেষে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান নগর পরিচালনায় কিরণকে সহযোগিতার অশ্বাস দেন। পরে তারা একে-অপরকে মিষ্টি মুখ করান।

এ সময় আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, ‘দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছি। গত মেয়াদে ২৭ মাস ১৩ দিন ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি জানি কীভাবে দল এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়।’

কিরণ বলেন, ‘গাজীপুর সিটির যে বেহাল দশা রয়েছে, তা ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে দলীয় নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরদের নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করব। রাস্তা প্রশস্তকরণে যারা জমি দিয়েছেন অথচ ক্ষতিপূরণ পাননি, তাদের বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব।’

এদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মনে করেন, প্যানেল মেয়রের পাশাপাশি আগে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন কিরণ। কয়েক বছর মেয়রের চেয়ারে থাকায় নগরের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল। তাই সমাধান করা তার জন্য সহজ হবে।

টঙ্গী পৌরসভা থেকে টানা পাঁচবারের কাউন্সিলর আসাদুর রহমান কিরণ।

৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেন বলেন, ‘২০১৩ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের অবর্তমানে ২৭ মাস ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কিরণ ভাই। সে সময় নগরীর রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেন তিনি। তাকে দায়িত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সঠিক কাজ করেছেন। আশা করি গাজীপুরবাসী সুফল পাবে।’

(ঢাকাটাইমস/২৬নভেম্বর/বিইউ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :