প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেতন কাঠামো নিয়ে বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের দিকনির্দেশনা নিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকটি রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে উপস্থিত থাকবেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। জানুয়ারি ২০২৫-এ কমিশন তাদের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮,০০০ থেকে ১,৬০,০০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনপ্রধান জানিয়েছেন, এ জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগ জানায়, বেতন কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের আগে তা পর্যালোচনার জন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বিচারবিভাগীয় পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পরীক্ষা করে সরকারের কাছে মতামত দেবে।
তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে নতুন সরকারের দিকনির্দেশনা ছাড়া পর্যালোচনা কমিটির কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য ছিল। সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থটি অন্য খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়িত হতে পারে। প্রথমে মূল বেতন কার্যকর হবে এবং পরে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত করা হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। ফলে সরকার ব্যয় সাশ্রয়ের নীতি অনুসরণ করছে।
(ঢাকাটাইমস/৫ এপ্রিল/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










