ড্রিল মেশিনের ফলা রেখেই পা সেলাই, সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

নাটোরের গুরুদাসপুরে অস্ত্রোপচারে পর ড্রিল মেশিনের ফলা রেখেই এক নারীর পা সেলাই করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ওই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামি ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান।
এই ঘটনায় গত সোমবার 'গুরুদাসপুরে ড্রিল মেশিনের ফলা রেখেই পা সেলাই, করলেন চিকিৎসক! পা হারানোর ঝুঁকি’ শিরোনামে ঢাকা টাইমসে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এদিকে নিজের অপরাধ গোপন করতে প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাড়-জোড় রোগ বিশেষজ্ঞ (অর্থপেডিক) চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম।
মঞ্জুরুল নামের হাসপাতালের একজন স্টাফকে সঙ্গে নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে চাকুরি বিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
শুধু এই ঘটনা নয়, গত ৬ জুন লালপুর উপজেলার দুয়ারিয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক ওসমান গণি নামের এক ব্যক্তিকে টিউমার অপারেশন করেন চিকিৎসক জাহিদুল। সুস্থ্য অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করলেও ওই ব্যক্তি লাশ হয়ে বের হন।
এর আগে গুরুদাসপুর উপজেলার ধাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলী গ্রামের লালচান মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের (৫৫) বাম পায়ে গত ৩ জুন রাতে বড়াইগ্রামের বনপাড়া জাহেদা ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করেছিলেন চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম। ওই ক্লিনিকটি চিকিৎসক জাহিদুলের মালিকানাধীন।
আনোয়ারা বেগমের ভাষ্যমতে, অস্ত্রপচারের সময় এনেসথেশিয়া পুশ করেছিলেন চিকিৎসক জাহিদ নিজেই। অস্ত্রোপচার সফল না হওয়ায় পা নিয়ে তাকে ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছে। চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে এখন তিনি শয্যশায়ী। গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
ঢাকার একটি ট্রমা সেন্টারের অর্থপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক আয়ুব আলী বলেন, খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে ঢাকায় আনা হয়। অস্ত্রোপচারের জায়গার মাংসে পচন ধরেছিল। নতুন করে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা যায়- অস্ত্রপচারের সময় ড্রিল মেশিনের ফলা ভেঙে হাড়ের ভেতর রয়ে গেছে।
হাড় জোড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা ইস্পাতের স্ক্রুগুলোও এলোমেলোভাবে লাগানো ছিল। মাংসের পচন হাড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সেখান থেকে মাংস সরিয়ে অন্য স্থানের মাংস স্থাপন করা হয়েছে। তবে হাড়ের ভেতরে থাকা ড্রিল মেশিনের ফলাটি তারা অপসারণ করতে পারেননি বলে জানান ট্রমার চিকিৎসক।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আলমাছ বলেন, হাসপাতালের কোনো সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসক জাহিদুলের সংবাদ সম্মেলন করার কথা নয়। বিষয়টি তিনি জানতেন না।
নাটোরের সিভিল সার্জন মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রকাশিত সংবাদটি তার নজরে আসার পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের পর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত চিকিৎসক জাহিদুলের করা সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে কিছু বলতে চাননি তিনি।
রাজশাহীর স্বাস্থ্য পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরপক্ষে তদন্ত করতে তিনি নাটোরের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































