ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্গাপূজার ও মন্দিরের আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৯

ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন ও মন্দিরের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ইস্কন অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শিকদার হাট এলাকার শ্রী শ্রী রসিক রায় জিও মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর মন্দির ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী পাঁচজন হলেন কচুবাড়ি গ্রামের রনজিত রায়, নুপুর রায়, পায়েল কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী এবং ভাতগাঁও গ্রামের বাসুদেব চন্দ্র ও অপু সরকার।
অন্যদিকে ইস্কন অনুসারীদের মধ্যে আহত হয়েছেন ভাতগাঁও গ্রামের জিতেন্দ্র নাথ, চম্পা রাণী, দক্ষনাথ রায় ও সোহাগ রায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্দিরের আধিপত্য ও আসন্ন দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সনাতন পক্ষ মন্দিরে প্রতিমা স্থাপনের প্রস্তুতি নিতে গেলে অপর পক্ষ বাধা দেয়। এ নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের নয়জন আহত হন।
খবর পেয়ে ভূল্লী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইস্কন পক্ষের রসুনাথ বলেন, তাদের মন্দিরে অন্যায়ভাবে পূজার আয়োজনের জন্য প্রতিমা স্থাপনের চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা করা হয়। তার দাবি, গত বছর দুই পক্ষ একসঙ্গে দুর্গাপূজার আয়োজন করলেও এবার সনাতন পক্ষ এককভাবে পূজা করতে চাইছে।
অন্যদিকে সনাতন পক্ষের তাপন রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা এই মন্দিরে পূজা করে আসছেন। পরে ইস্কন অনুসারীরা এসে মন্দিরটি দখলের চেষ্টা করছেন। তার দাবি, গত বছর প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষ একসঙ্গে পূজা করলেও এবার ইস্কন অনুসারীরা তাদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দিতে চাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, গত বছর অনেক চেষ্টার পর মন্দিরটিতে দুর্গাপূজার আয়োজন করা সম্ভব হয়েছিল। এবার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শ্রী শ্রী রসিক রায় জিও মন্দিরের আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরও মন্দিরের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় একজন নিহত হন। এরপর মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। প্রায় ১৫ বছর ধরে পূজার সময় বিভিন্ন বিধিনিষেধের মধ্যে ছিল মন্দিরটি।
পরে প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে গত বছর মন্দিরটিতে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পূজা শুরুর আগেই সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পূজার আগেই প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে মন্দিরে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
(ঢাকাটাইমস/১অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










