রাজশাহীতে ৪২৭ বোতল ফেয়ারডিলসহ দুজন গ্রেপ্তার

রাজশাহীর চারঘাটে ৪২৭ বোতল ফেয়ারডিলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ১ নম্বর অভিযুক্ত সুমন আলীর বিরুদ্ধে আরএমপি, রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় ১টি এবং ২ নম্বর অভিযুক্ত হাতেম আলীর বিরুদ্ধে ডিএমপি, গাজীপুর টঙ্গী পশ্চিম থানায় ১টি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর রাত ৩টা ৫ মিনিটের দিকে চারঘাট থানাধীন মোক্তারপুর নাওদাড়া এলাকায় গোলাপের চায়ের দোকানের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)মামুন অর রশীদের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, সহকারী পুলিশ সুপার, চারঘাট সার্কেল মো. খালেদ হোসেন পরামর্শে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই তাসেমসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, ট্রাকটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকা থেকে পাথর নিয়ে গাজীপুরের মাওনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে চারঘাট উপজেলার মোক্তারপুর এলাকায় পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাকটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিনটি প্লাস্টিকের ছোট বস্তার ভেতর থেকে ৪২৭ বোতল ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সুমন আলী (৩২), পিতা—মো. আব্দুল করিম, সাং—মুক্তারপুর পাকিয়ান, থানা—চারঘাট, জেলা—রাজশাহী এবং মো. হাতেম আলী (৩০), পিতা—আব্দুল আজিজ মোল্লা, সাং—দাসিরদিয়া, থানা—আড়াইহাজার, জেলা—নারায়ণগঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৫৯৯৯ নম্বরের ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধেই এর আগে মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এছাড়া মো. শহিদুল ইসলাম, পিতা—মৃত আব্দুল মজিদ, গ্রাম—টাংগন, থানা—চারঘাট, জেলা—রাজশাহী নামের এক ব্যক্তিকে কাটাখালি থানার একটি মাদক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। চারঘাটকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক পরিবহন, বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি আরও বলেন, চারঘাট মডেল থানার আওতাধীন এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান—আপনার আশপাশে মাদক কেনাবেচা, পরিবহন বা সেবনের কোনো তথ্য জানতে পারলে দ্রুত পুলিশকে জানান। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
(ঢাকা টাইমস/২১সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










