প্রতাপনগরে বেড়িবাঁধে ৫০ মিটার ভাঙন, প্লাবনের শঙ্কা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১০
অ- অ+

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগের অপেক্ষা না করে তারা স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করেন। বালি ও মাটি ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা।

এর আগে, রাত তিনটার দিকে ভাঙন শুরু হলেও সকাল সাতটার দিকে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ নদী-খালের দিকে ধসে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে প্রতাপনগর ও আশপাশের ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে বাঁধের ওই অংশে প্রথমে ভাঙন দেখা দেয়। পরে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ বড় হতে থাকে। বাঁধের সঙ্গে ওয়াবদা সড়কের একটি অংশও ধসে পড়েছে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, সারা বছরই আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। সব সময় ভয় থাকে, কখন ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে আমরা একটু শান্তিতেও থাকতে পারি না। সবে এলাকায় গাছপালা ও ফসল ফলতে শুরু করেছে। আবার প্লাবিত হলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে ভেসে যাবে।

আরেক বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সকাল থেকে স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করছি। দ্রুত বালি ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা না গেলে ভাঙন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পরই সাধারণত পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎপরতা দেখা যায়। অথচ আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। যে স্থানে ভাঙন হয়েছে, তার সামনেই খাল রয়েছে। বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে প্রতাপনগরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নও প্লাবিত হতে পারে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধের ভাঙন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। এতে বসতবাড়ি, ফসলের জমি ও মৎস্যঘেরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন বন্ধ করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অংশ স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক।

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরই স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়েছি। সেখানে আনুমানিক ৫০ মিটার বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুতই ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধ রক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভাঙন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।

(ঢাকা টাইমস/২৮সেপ্টেম্বর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল থেকে ফ্লাইট চলাচল শুরু
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একাদশে ফিরলেন জামাল, পরিবর্তন ৪
চাঁদপুরে কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০