ডেঙ্গুতে মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে:মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুরোগীদের যথাযথ চিকিৎসার পাশাপাশি তারা কোথা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন, তা শনাক্ত করে ওই এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকদের নিয়ে ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মেয়র বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা।
তিনি বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত জেলায় ৪ হাজার ৩৫৯ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে নগরে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে সতর্ক সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মেয়র বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক কম থাকলেও সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অক্টোবরেও থেমে থেমে বৃষ্টি হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে।
এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, তিন দিনের জমা পানি রাখা যাবে না পানি ফেলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, ফুলের টব, বাসাবাড়ির আঙিনা, খোলা বারান্দা, এসির পানির ট্রে ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। এসব উৎস ধ্বংস না করলে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
ডাবের খোসায় পানি জমেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে উল্লেখ করে তিনি ব্যবহৃত ডাবের খোসা দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান।
মেয়র বলেন, হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার পর শুধু বর্তমান ঠিকানা নিলেই হবে না। তিনি কোথায় ছিলেন, কোন এলাকায় যাতায়াত করেছেন এবং সম্ভাব্য কোথা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন এসব তথ্যও চিকিৎসকদের সংগ্রহ করতে হবে।
সংক্রমণের স্থান সঠিকভাবে শনাক্ত করা গেলে ওই এলাকায় মশক নিধন, লার্ভিসাইড প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস ও জাপানিজ এনসেফালাইটিসসহ অন্যান্য রোগের বিষয়েও চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মেয়র।
তিনি বলেন, ডিফারেনসিয়াল ডায়াগনোসিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব জ্বরকে ডেঙ্গু ধরে নেওয়া যাবে না। রোগীর সঠিক ইতিহাস ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র বলেন, লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত বিটিআই (ব্যাসিলাস থুরিংয়েনসিস ইসরাইলেন্সিস) ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধনে অ্যাডাল্টিসাইড এবং লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে সময়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্ট মশা নিধনে পৃথক সময়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মেয়র জানান, নগরের হালিশহর, কোতোয়ালি, পাহাড়তলী, বন্দর, আকবর শাহ, ফিরোজশাহ, অক্সিজেন ও বাকলিয়া এলাকায় তুলনামূলক বেশি ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছে। এসব এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, আবেগ বা গুজবের ভিত্তিতে নয়, তথ্যের ভিত্তিতেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।
এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় ডেঙ্গুরোগীর দ্রুত শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা, ব্যবস্থাপনা, জটিলতা প্রতিরোধ ও সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












