মদিনায় বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৭| আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৮
অ- অ+

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এ হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হুথিরা একে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে দাবি করেছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার মদিনার একটি প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়ে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়।

সৌদি জোটের দাবি, হামলার পর উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্তে হুথিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জোটের ভাষ্য, মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

তবে হুথি নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, সৌদি জোটের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গোষ্ঠীটির এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, মক্কায় হামলার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি আড়াল করতেই মদিনার ঘটনা নিয়ে নতুন অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সৌদি জোট জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের আকাশে হুথিদের ছোড়া চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে খামিস মুশাইত ও জাজানের আকাশসীমা থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জোটটি।

ইয়েমেনের ভেতরেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে লড়াই হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, এসব সংঘর্ষে কয়েক ডজন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

সামরিক সূত্রের বরাতে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের জাবাল হাবাশি ও মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-আকরুদ ফ্রন্টে হুথিরা ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। শুধু আল-আকরুদ এলাকাতেই অন্তত ৩০ হুথি সদস্য নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর ছয়টি বিমান হামলায় হুথিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সংকটও গভীর হচ্ছে। দেশটির বাস্তুচ্যুত শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫১৯টি পরিবারের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের নিবন্ধন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ তাইজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আর লাহিজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
গ্রেপ্তারের আগে ভিডিওবার্তায় যা বললেন জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান
ময়মনসিংহে পুলিশ সদস্যদের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
ডেঙ্গুতে চলতি বছরে ২৫০ জনের মৃত্যু
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার