বরগুনা-ঝালকাঠি থেকে সহযোগী এনে ঢাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতেন পিচ্চি আল-আমিন: এসআরবি

রাজধানীর রামপুরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. আল-আমিন ওরফে পিচ্চি আল-আমিনের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ নিয়ে আল-আমিনসহ তার ছয় সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এসআরবি জানিয়েছে, আল-আমিনের বাড়ি ঝালকাঠিতে। তিনি বরগুনা ও ঝালকাঠি অঞ্চল থেকে তার সমমনা লোকজনকে ঢাকায় এনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
রবিবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
আল-আমিন কোনো গ্যাংয়ের প্রধান কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, আল-আমিনের বাড়ি ঝালকাঠিতে। তার পাঁচ সহযোগীর মধ্যে চারজনের বাড়ি একই জেলায় এবং একজনের বাড়ি বরগুনায়। তাদের বিষয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আল-আমিন তার সমমনা বা যাদের তিনি নিজের কাজের উপযোগী মনে করতেন, তাদের ঢাকায় এনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
আল-আমিনের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কি না? জানতে চাইলে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক বলেন, ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলা পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য, আল-আমিন স্বভাবগত অপরাধী। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকাকালে কেউ তার মাধ্যমে সুযোগ নিয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি নিজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
আল-আমিনকে গ্রেপ্তারের পর রামপুরা এলাকার মানুষ খুশি হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ১ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিচ্চি আল-আমিন, তার দুই সহযোগী কামাল উদ্দিন ও খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আল-আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার আরও দুই সহযোগী মো. সোহাগ হাওলাদার ওরফে মামুন এবং মো. রিফাত ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লোহার তৈরি দুটি দেশীয় ছুরি উদ্ধার করা হয়।
ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কাওছার খানের কাছে আরও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কাওছারের অবস্থান শনাক্ত করে ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে কাওছারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাত সাড়ে আটটার দিকে খিলগাঁও থানার ভূঁইয়াপাড়ায় একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আল-আমিন সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল ও গুলশান থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, হত্যা ও অস্ত্র আইনে করা মামলাসহ মোট ২৭টি মামলা রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












