হরমুজ প্রণালি খুলবে কবে? ৭ শর্ত জানাল ইরান

ইসলামাবাদ সমঝোতা অনুযায়ী সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তানীতি নির্ধারণ করে না।
রবিবার ইরানের সংসদের প্রকাশ্য অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন কলিবফ। ইরনা ও পার্সটুডের প্রতিবেদনে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরে কলিবফ বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খোলা হবে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইরান সময়ক্ষেপণ করে একতরফাভাবে কোনো দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেবে না।
ইরানের সংসদ স্পিকার বলেন, ‘সময়ক্ষেপণ করে একতরফাভাবে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে।’
কলিবফ আরও বলেন, ইরান এমন কোনো দেশ নয় যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা প্রতিদিনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কৌশলগত নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত নেবে। শত্রুপক্ষের প্রকৃত আচরণ ও বাস্তব পদক্ষেপই ইরানের কর্মনীতির ভিত্তি; গণমাধ্যমের বক্তব্য, প্রচারণা বা বিভ্রান্তিকর বিবৃতি নয়।
বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন কলিবফ। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা এই অঞ্চলের ইতিহাসকে ‘৭ অক্টোবরের আগে ও পরের’ দুই পর্যায়ে ভাগ করে দিয়েছে। তাঁর দাবি, ওই দিন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের প্রতিরোধ ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।
কলিবফের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সক্ষমতার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান তুলে ধরা ইসরায়েল বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রয়েছে। তাঁর মতে, সামরিক হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে দুর্বল হয়ে পড়া ভিত্তি সহজে পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, নজিরবিহীন মার্কিন সমর্থন পাওয়ার পরও ইসরায়েল সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। একই সঙ্গে ইরানের জনগণের প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার মুখে যুক্তরাষ্ট্রও চাপে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ফলে এই নৌপথ নিয়ে ইরানের অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












