সৌদি আরবের রিয়াদে তৃতীয় দিনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের, ব্যাপক বিস্ফোরণ

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০
অ- অ+

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। রিয়াদে দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) রিয়াদ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর আগে কয়েক দিনের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলার কারণে বন্ধ রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, হুতিরা রিয়াদের দিকে একটি এবং খামিস মুশাইতের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার রাতে রিয়াদের বাসিন্দারা বেশ কয়েকবার শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর কিছুক্ষণ আগে তাঁদের মুঠোফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির জনবহুল বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিরা জানিয়েছে, রিয়াদে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য শহরগুলোর বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা না করতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব বিমানবন্দর এখন ‘নিরাপদ নয়’।

এর আগে শনিবার হুতিদের হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববারের আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকবে। এ কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানোর দাবি করছে হুতিরা।

সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হুতিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

হুতিদের হাতে এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে সৌদি আরবের প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হামলার বিষয়ে আরও আগে সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলেও ওয়াশিংটন এই সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি। হুতিদের বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হুতিরা খুব খারাপ আচরণ করছে। এটা ভালো নয়।’

তবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুতিদের এক কর্মকর্তা।

গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে জড়ালে পাল্টা জবাব দিতে তারা সময় নষ্ট করবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও এ অঞ্চলে দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

আল-বুখাইতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এসব স্থাপনা থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এসব স্থাপনা এখন হুতিদের কাছে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে হুতিরা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলাও চালিয়েছে।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংঘাতও তীব্র হয়েছে।

এদিকে রিয়াদে এক জ্বালানি সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেন, গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরগুলোতে হামলা দেশটির সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার বড় পরীক্ষা নিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে গুরুতর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও সমানভাবে কঠোর হতে হবে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেওয়া ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সৌদি অর্থনীতিকে বহুমুখী করার এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগও অব্যাহত রাখতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৩ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পুরান ঢাকার চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে
বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম
পানামায় ফের ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ২৭
‘মর্গে ৩০০ থেকে ৪০০ লাশ, একটার ওপর একটা পড়ে আছে’