ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনা মোতায়েন, নিরাপত্তা ব্যর্থতা স্বীকার সরকারের

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০
অ- অ+

ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভ সামনে রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ। সেই সঙ্গে চলমান সহিংসতা মোকাবিলায় নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছে ফ্রান্স সরকার।

মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ‘সেন্তিনেল’ ইউনিটের সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। এতে পুলিশ ও জেন্ডার্মেরির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কট্টর বামপন্থি গোষ্ঠীগুলো সহিংসতা উসকে দিয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে মিছিল করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এতে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

রাজধানী প্যারিসে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। বিভিন্ন শহরে সহিংসতার ঘটনায় ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি এলাকায় স্থানীয়ভাবে কারফিউও জারি করা হয়।

এদিকে, গত সপ্তাহান্তের সহিংসতা মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন করতে না পারাকে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পূর্বনির্ধারিত ছুটি বাতিল না করাও কর্তৃপক্ষের ভুল ছিল বলে উঠে এসেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

নুনিয়েজ বলেন, বিক্ষোভের সময় যা ঘটেছে, তার জন্য তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন।

সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো আসন্ন বিক্ষোভে সহিংসতা ঠেকানো, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া।

(ঢাকাটাইমস/২১ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, কার্যকর ১ নভেম্বর থেকে
পাঁচ দফা দাবিতে রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক, বেড়েছে তোড়জোড়
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা, ওএসডি রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার