ধর্ম-বর্ণের বিভাজন নয়, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৫৮
অ- অ+

ধর্ম-বর্ণের পরিচয়ে নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবাইকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সবার সহযোগিতায় সুখী-সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। সেদিন কেউ দেখেনি কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান। স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের ওপর হুমকি এসেছে। তখনো মানুষ কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে নেমেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। দেশের প্রতিটি জেলায় লাখ লাখ মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। সেদিনও কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি। গুলিবিদ্ধ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, কেউ পথে প্রাণ হারিয়েছেন। সবার লক্ষ্য ছিল মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

তারেক রহমান বলেন, এই দেশ সবার। কেউ মুসলিম, হিন্দু বা বৌদ্ধ যে ধর্মেরই হোন না কেন, সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় এখানে মুখ্য নয়। দেশের আইনে একজনের জন্য যা প্রযোজ্য, অন্যজনের জন্যও তা-ই প্রযোজ্য। রাষ্ট্র সবার অধিকার নিশ্চিত করবে। সবার সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নেতারা।

রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর বহর জেএম সেন হলে পৌঁছায়। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সেক্রেটারি বিপ্লব দে পার্থ এবং হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমাল।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এবারের দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়; সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এটি জাতীয় ঐক্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র তার সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে সঙ্গে নিতে না পারলে আধুনিক রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারে না। অতীতে দেশে মানুষের জীবন ও ব্যবসার নিরাপত্তা এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নিয়ে নানা সংকট ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সব ধর্মের মানুষের একসঙ্গে উৎসবে অংশগ্রহণ ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন হবে না।

তিনি বলেন, কেউ যেন কোনো রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাংকে পরিণত না হন। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। দেশের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার অন্য নাগরিকদের মতো আপনাদেরও রয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, উপাসনা ও সংস্কৃতি পালনে সবার সমান অধিকার রয়েছে।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাত ১০টায় নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। এতে পাঁচ শতাধিক ডেলিগেট উপস্থিত ছিলেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
অটোরিকশায় 'কিউআর কোড' চালুর উদ্যোগ ডিএমপির
ময়মনসিংহ রেঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন হচ্ছে: ডিআইজি
চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী
ঝিনাইদহে মাদ্রাসায় গাছের চারা রোপণ