ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত, হবে ছয় লেনের সড়ক

ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অবকাঠামো সরিয়ে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসিও বন্ধ করে এর কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় নেওয়া হবে।
গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ১৯ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বিভাগের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে দুই পাশে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে এর কার্যক্রম সওজের আওতায় আনতে হবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
তবে ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানালেও বিআরটি প্রকল্প নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ করেননি।
গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে দ্রুত বাস চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। ২০১২ সালের নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
২০১৬ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে বিআরটি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের আওতায় বিআরটি লেন, স্টেশন, উড়ালসড়ক, টঙ্গী সেতু ও বাস ডিপোসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তরসহ নানা জটিলতায় কাজের গতি ব্যাহত হয়।
২০১৮ সালে মাঠপর্যায়ে বড় পরিসরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে প্রকল্পের ব্যয়। একপর্যায়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকায়, যা প্রাথমিক ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
২০২৫ সালে প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার বেশি এবং মেয়াদ ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে ওই বছরের ২৭ জুলাই একনেক প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি।
যানজট ও জনভোগান্তির অবসানের উদ্যোগ
বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর, টঙ্গী ও বিমানবন্দর এলাকার সড়কে যানজট ও জনভোগান্তি তৈরি হয়। দ্রুত গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও প্রত্যাশিতভাবে তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে এবার বিআরটি অবকাঠামো অপসারণ করে সড়কটিকে সাধারণ ছয় লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। পাশাপাশি ওভারপাসগুলো চার লেনে উন্নীত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোম্পানির কার্যক্রম সওজের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।
(ঢাকাটাইমস/২১ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













