অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল ট্রাম্প প্রশাসনের

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯
অ- অ+

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এ পর্যন্ত তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তার প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিসা বাতিলের এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুততম সময়ে সর্বাধিক ভিসা বাতিল করেছে। আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেন—এমন বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েক মাসে ভিসা বাতিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের এ অভিযানের সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ও বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু অভিবাসীদের মধ্যে বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন অধিকারকর্মীরা। গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিলের ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া মিনেসোটার সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কিছু জালিয়াতির ঘটনা সামনে এনে বৃহত্তর অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করারও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, বিদেশি নাগরিকদের নির্বাসনপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের মতে, তার প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপে বৈধ অভিবাসনও কঠিন হয়ে উঠছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আরোপের বিষয়টিও রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২১ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
আজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস
ধর্ম-বর্ণের বিভাজন নয়, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী