পূবাইলে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে জিম্মি করে লুটপাট, গ্রেপ্তার ১

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে মারধর ও টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সোহেল মিয়া (৪২)। তিনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার আধকানী জালালাপুর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পূবাইল থানার মাজুখান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে রেইনবো কমার্শিয়াল অ্যান্ড এসএস লিমিটেডের মাধ্যমে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের সাবেক দুই নারী কর্মী ভালো বেতনে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে মাজুখান এলাকায় ফাহিমা নামের এক নারীর ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। সেখানে চা-নাশতা খাওয়ার পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আরও কয়েকজন ওই বাসায় প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে জিম্মি করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে তাঁর স্ত্রীর কাছে দুর্ঘটনার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে আরও ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া দুটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের লাল-কালো রঙের একটি পালসার মোটরসাইকেল বিক্রি করেছেন মর্মে তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে মোটরসাইকেলটি নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় পূবাইল থানায় নিয়মিত মামলা হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার দুই নম্বর আসামি সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, সোহেল পূবাইলের মাজুখান এলাকায় ফাহিমা নামের এক নারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার সোহেলের হেফাজত থেকে অভিযোগে লুণ্ঠিত একটি মোটরসাইকেল, একটি স্মার্টফোন ও তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/০৮ নভেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












