ইসরায়েলে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা আইজেনকট

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২
অ- অ+

চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইসরায়েলে নতুন জোট সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।

ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই সরকার গঠনের জন্য ডাকতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যিনি জোট গড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পাবেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারবেন, তাকে বেছে নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের রয়েছে। সেই সূত্রেই নবনির্বাচিত ১২০ সদস্যের নেসেটে আইজেনকট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট তাকেই প্রথম সুযোগটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন এসেছে ৪৬ জনের।

নতুন সরকার গঠনের জন্য এখন ২৮ দিন সময় পাবেন মধ্যপন্থি ‘ইশার’ পার্টির এই শীর্ষ নেতা। তবে জটিল এই সমীকরণ মেলাতে প্রয়োজনবোধে এ মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে। দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট লেখেন, ‘এখন সময় এসেছে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের। জনগণের বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আমি সবটুকু করার চেষ্টা করব।’

১২০ আসনের নেসেটে এককভাবে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এবারের নির্বাচনেও নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি এবং তার অতি-ডানপন্থি ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স মিত্ররা মিলে পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকটের মধ্যপন্থি দল ও তার ব্লকের অপর তিনটি বিরোধী দল মিলে আসন পেয়েছে ৪৮টি।

তবে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে দুই আরব জোট—ইউনাইটেড আরব লিস্ট এবং জয়েন্ট লিস্ট। আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতির কারণে জোট দুটি যৌথভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা এখন মূল ‘কিংমেকার’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদিও নির্বাচনের আগে একটি ব্যতিক্রমী দল ছাড়া সবকটি ইহুদি রাজনৈতিক দলই আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো সরকার না গড়ার অঙ্গীকার করেছিল।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার গঠনের এই সিদ্ধান্তের কথা ইতোমধ্যে আইজেনকট ও নেতানিয়াহু উভয়কেই অবহিত করা হয়েছে। তবে আইজেনকটের সামনে সরকার গঠনের পথটি বেশ জটিল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সরকার গঠনের তিনটি পথ খোলা রয়েছে:

  • জাতীয় ঐক্যের সরকার: নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের সমন্বয়ে একটি বড় জোট। এর আগে ২০২০ সালে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে নেতানিয়াহু ও বেনি গ্যান্টস ক্ষমতার হাতবদলের (রোটেশনাল) ভিত্তিতে এমন সরকার গঠন করেছিলেন।
  • ডানপন্থি ব্লকের ভাঙন: নেতানিয়াহুর জোটের কিছু এমপিকে নিজের পক্ষে টেনে আইজেনকটের সরকার গঠন।
  • আরব দলগুলোর সমর্থন: পর্দার আড়ালের কোনো সমঝোতার মাধ্যমে আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠন। যদিও আইজেনকট ও তার ব্লকের সদস্যরা এতদিন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। এর বাইরে তিনি আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গেও চুক্তি করার চেষ্টা চালাতে পারেন।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু ও তার বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতার অভাবে সে সময় তিন বছরে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারও যেন সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য শুরু থেকেই একটি স্থিতিশীল সরকার গড়ার ওপর জোর দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় দল ও তাদের প্রতিনিধিদের বুঝতে হবে—সব প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা করা সব সময় সম্ভব হয় না।’ এখন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার উপহার দিতে পারেন কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

(ঢাকাটাইমস/০৮ নভেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম অবসরে যাচ্ছেন
সেতু ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙল গার্ড রুমের কাচ
মধ্যরাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন
সেই নিউ গিনি প্রপার্টিজে আবারও হামলা-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১৪