জামালপুরে কাজ শেষের আগেই ধস, মেরামতে জোড়াতালি

জামালপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫৮
অ- অ+

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ-তারাটিয়া-সানন্দবাড়ি সড়কের হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের কাঁঠাল বিল এলাকায় নদীর ভাঙনরোধে নির্মিত প্যালাসাইডিং ও সিসি ব্লক ফাটল ধরে ধসে পড়েছে। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়কের সুরক্ষায় নির্মিত এসব অবকাঠামো ধসে পড়ে যায়।

ধসে পড়া অংশে ফের মেরামতের নামে জোড়াতালির কাজ শুরু হলেও কাজের মান নিয়ে শঙ্কা কাটছে না স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা দায়সারা মেরামতের নামে জোড়াতালির কারণে নতুন করে ধসে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সিসি ব্লকে ফাটল ধরে ধসে পড়ে। এতে ব্লকের চাপে প্যালাসাইডিং ভেঙে যায়। এছাড়া সড়কের পাশের নদী থেকে মাটি তুলে প্যালাসাইডিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নির্মিত ব্লকগুলো দুর্বল হয়ে ফাটল ধরে ধসে পড়ে। বর্তমানে পুনরায় মেরামতের নামে জোড়াতালির কাজ চললেও তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ-তারাটিয়া বাজার-সানন্দবাড়ি সড়কের সংস্কার কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ। ২০২৪ সালের ১ আগস্ট কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ সড়কের কাঁঠাল বিল এলাকায় ৪৫৫ মিটার প্যালাসাইডিং নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩২ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৫ টাকা। এ ছাড়া ২ হাজার ৫২৫ বর্গমিটার সিসি ব্লক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৬ টাকা। সব মিলিয়ে এ দুটি কাজের বরাদ্দ ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৩১ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই প্যালাসাইডিং ও সিসি ব্লকে ফাটল ধরে ধসে পড়ে। পরে সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে পুনরায় মেরামতের কাজ চলছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে কাঁঠাল বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধসে পড়া প্যালাসাইডিং ও সিসি ব্লক মেরামতের কাজ চলছে। ধসে যাওয়া ব্লক তুলে নতুন করে বসানো হচ্ছে। কিন্তু ব্লক ধসে প্যালাসাইডিংয়ের মাঝখানে ভেঙে গেছে। সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। সেই প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। আবার বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরা ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে মেরামত করছেন। কোথাও কোথাও ফাটল ও ভাঙা অংশ ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কের প্যালাসাইডিং নির্মাণের পরপরই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। একপর্যায়ে সেগুলো ধসে পড়ে। এখন আবার মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু শুধুই দায়সারা মেরামত করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু রায়হান বলেন, ‘নদী থেকে মাটি তুলে আবার সেখানেই ডাম্পিং করা হয়েছে। এরজন্য মাটি সড়ে গিয়ে ব্লক ধসে পড়েছে। বর্তমানে মেরামতের কাজ চললেও দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হলেই ব্লক ধসে যেতে পারে। আর প্যালাসাইডিংয়ের ভাঙা অংশে কোনো ধরনের মেরামত কাজ না করে সেখানে বালুর বস্তা ফেলে জোড়াতালির মেরামত কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, এ কাজে পুরোপুরি দুর্নীতি হয়েছে। এখান থেকে মাটি তুলে এখানেই দেওয়া হয়েছে। কাজে সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে কম। দেওয়ালটা (প্যালাসাইডিং) ১০ ইঞ্চির জায়গায় ৫ ইঞ্চি করা হয়েছে। দুর্নীতি করার কারনেই ব্লক ধসে পড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক শ্যামল চন্দ্র সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করলেও এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে পরে ফোন করে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন তিনি।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো.মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী থেকে মাটি উত্তোলন করেছিল। ধসে যাওয়া অংশে পুনরায় সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে কাজ প্রায় শেষের দিকে।

জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পরও এক বছরের মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে এর দায়ভার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। ধসে যাওয়া অংশে পুনরায় সংস্কারকাজ চলছে।

(ঢাকা টাইমস/৭নভেম্বর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান শামা ওবায়েদের
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের
ঝিনাইদহে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
উখিয়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন