মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান শামা ওবায়েদের

মানবপাচারকারী চক্রের বিস্তার রোধে স্থানীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পরিসর পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলা দালাল ও মানবপাচারকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, মানবপাচার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। এই চক্রের সদস্যরা দেশের ভেতরে ও বিদেশে বিভিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে। ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নয়, সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে পাচারকারীদের কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘তিতাস শেখ দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। তাঁর মতো একজন সাহসী সেনাসদস্যকে আমরা হারিয়েছি। মানবপাচারকারীদের কারণে আর কোনো পরিবার যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় রয়েছে। পাচারকারীরা যেসব আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে মানুষকে বিদেশে নিয়ে যায়, সেসব দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, পাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।
শামা ওবায়েদ বলেন, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ ১৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের নিয়ে মানব পাচার প্রতিরোধবিষয়ক বৈঠক হয়েছে। সেখানে গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে বিভিন্ন কারণে নিখোঁজ, জিম্মি কিংবা আটক থাকা বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আযাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।
এর আগে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে তিতাসের কবর জিয়ারত করে দোয়া করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে অভিযান পরিচালনার সময় মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তিনি নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিতাস ছিলেন সবার বড়। ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
(ঢাকা টাইমস/৭নভেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










