হরমুজ প্রণালির কাছে ইরান ও মার্কিন সামরিক উত্তেজনা: কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণ

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক এবং বন্দর আব্বাস শহরে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে। নতুন করে ঘটা এই বিস্ফোরণগুলোর সঙ্গে জলপথটিতে দেশ দুটির চলমান সামরিক তৎপরতার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিস্ফোরণের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম প্রথমে কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কথা জানালেও পরে একটি সূত্রের বরাতে দাবি করে, এই বিস্ফোরণের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি ইরানি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি বলে জানিয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির ‘অননুমোদিত পথে’ চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে। তবে সন্ধ্যার বিস্ফোরণের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের একটি যুদ্ধবিমান থেকে পেছনের অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে অচল করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন আগেই কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সীমিত পরিসরের বিমান হামলার পর এই নতুন বিস্ফোরণের খবরগুলো সামনে এল। হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ওয়াশিংটনের ওপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে ইরান এই জলপথে চলাচলের ওপর নানা বিধিনিষেধ ও জাহাজে হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে মার্কিন বাহিনীও অবরোধ ও জলপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।(ঢাকাটাইমস/০৮ নভেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












