গুরুদাসপুরে সড়কের গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ২১ জুন ২০২৬, ১৭:২৩
অ- অ+

নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকারি সড়কের পাশে বছরের পর বছর ধরে বেড়ে ওঠা বৃক্ষরাজি কেটে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার চাঁচকৈড়-বিলদহর (সিংড়া) সড়কের দুর্গাপুর এলাকায় আবু সাইদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ জুন) সড়কের পাশ থেকে চারটি তালগাছ, দুটি শিমুলগাছ ও অন্যান্য প্রজাতির আরও চারটি গাছসহ মোট ১০টি গাছ কেটে ফেলা হয়। এরপর ওই স্থানে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পশ্চিম পাশে কাটা গাছের গুঁড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে পুরোদমে চলছে স্থাপনা নির্মাণের কাজ। প্রায় ১০ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছেন। কেটে ফেলা গাছগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে কথা হয় আবু সাইদের সঙ্গে, যার বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তিনি দাবি করেন, তার পুকুরসংলগ্ন সড়কের পাশে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। একটি দোকানঘর নির্মাণের প্রয়োজনে গাছগুলো কেটেছেন। তবে গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের কোনো অনুমোদন নেননি বলে জানান তিনি।

আইন অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ছাড়া বন, সড়ক কিংবা সরকারি জায়গার গাছ কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় এ ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা, ক্ষতিপূরণ এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, সহস্রাব্দের সূচনালগ্নে বন বিভাগ ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগে সড়কটির দুই ধারে প্রায় ১৫ কিলোমিটারজুড়ে নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছিল। বিধি অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদ শেষে বন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করে সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা।

বন কর্মকর্তা আরও জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে থাকায় বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তবে সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

বন বিভাগের সুবিধাভোগী দিলমোহাম্মদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কজুড়ে বন বিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রোপণ করা হয়েছিল এসব গাছ। দীর্ঘদিনের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা গাছগুলো বিক্রি হলে তার ৫৩ শতাংশ লভ্যাংশ সুবিধাভোগীদের পাওয়ার বিধান রয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি এক শ্রেণির মানুষ নানা অজুহাতে সড়কের পাশের এসব মূল্যবান বৃক্ষ কেটে নিয়ে যাচ্ছে, যা শুধু সরকারি সম্পদেরই ক্ষতি নয়, বরং পরিবেশের জন্যও এক নীরব হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ওই সুবিধাভোগী।

দিনের আলোয় সড়কের গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ঘটনাটি তার জানা ছিল না। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২১জুন/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
৮১২ কোটি টাকার মসুর ডাল ও ভোজ্য তেল কিনছে সরকার
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার্থে বাজেটে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিসহ তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার বদ্ধপরিকর: জিয়াউদ্দিন হায়দার
প্রবাসীর হারানো লাগেজ খুঁজে দিল আনসার, মিলল স্বস্তি
জমির মালিকানা নিয়ে প্রবাসীদের বড় সুখবর দিলো সৌদি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা