‘আমার বন্ধু মহাজাদু জানে’: সম্পর্কের নতুন মাত্রা

মো. আবদুল মান্নান
  প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০২৬, ১৬:৫৫
অ- অ+
ছবি এআই জেনারেটেড।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া নিছক প্রোটোকলগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বার্তা, কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।

সফরের আনুষ্ঠানিকতা, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা কিংবা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা- এসবের বাইরে যে বিষয়টি সাধারণ মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, তা হলো মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে বাংলাদেশের জনপ্রিয় গান ‘আমার বন্ধু মহাজাদু জানে’ ব্যবহার করা।

কূটনৈতিক যোগাযোগে সাংস্কৃতিক প্রতীকের ব্যবহার নতুন নয়, কিন্তু একটি রাষ্ট্রীয় সফরের সরকারি ভিডিওতে অন্য দেশের একটি জনপ্রিয় গানের আবহ সংযোজন নিঃসন্দেহে বিশেষ অর্থ বহন করে। এই ঘটনাকে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল উপাদান হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি দুই দেশের সম্পর্কের মানবিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মাত্রাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জগতে শক্তির নানা রূপ রয়েছে। সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা কিংবা ভূরাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘সফট পাওয়ার’ বা নরম শক্তি। একটি দেশের সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত, জীবনবোধ এবং জনগণের প্রতি অন্য দেশের মানুষের ইতিবাচক অনুভূতি কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয় যখন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের গাওয়া ‘ আমার বন্ধু মহাজাদু জানে” গানটি রাষ্ট্রীয় সফরের ভিডিওতে ব্যবহার করে, তখন সেটি নিছক সংগীত নির্বাচন নয়; বরং একটি সাংস্কৃতিক বার্তা। এটি বাংলাদেশের মানুষের আবেগের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক এবং জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতির একটি সূক্ষ্ম উদাহরণ।

বিশ্বরাজনীতিতে আজ কূটনীতি কেবল রাষ্ট্রপ্রধানদের করমর্দন কিংবা চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং জনমতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের কৌশল এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। আনোয়ার ইব্রাহিমের ভিডিওটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া এই নতুন বাস্তবতারই প্রতিফলন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কূটনৈতিক সৌজন্যের গণ্ডি অতিক্রম করে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি স্মরণ করেছেন, যুবনেতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সফরে এসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পরবর্তীকালে উপ-প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তার একাধিক বৈঠক হয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ সম্ভবত ছিল তারেক রহমান ও তার পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা। তিনি বলেছেন, তারেক রহমান এবং তার পরিবার চরম কষ্ট ও সংগ্রাম সহ্য করেছেন; কিন্তু জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও উন্নয়নের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

একজন বিদেশি সরকারপ্রধানের কাছ থেকে এ ধরনের মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো রাজনৈতিক নেতার ভাবমূর্তি কেবল তার দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মাধ্যমে গঠিত হয় না; বরং বিদেশি রাষ্ট্রনায়কদের পর্যবেক্ষণ, সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আস্থাও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো নতুন সরকারের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোন দেশকে প্রথম সফরের জন্য নির্বাচন করা হচ্ছে, তা থেকেই সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তারেক রহমানের সরকার মালয়েশিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করে কয়েকটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। প্রথমত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তৃতীয়ত, মুসলিম বিশ্বের মধ্যমপন্থী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মরত। তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়; অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষেত্রেও গভীরভাবে সংযুক্ত।

আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকট সমাধানে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আসিয়ান কাঠামোর মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী সংকট মোকাবিলা করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহানুভূতি থাকলেও কার্যকর রাজনৈতিক সমাধান এখনও অধরা। মালয়েশিয়া যদি আসিয়ানের প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তাহলে বিষয়টি নতুন গতি পেতে পারে। বিশেষ করে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপের ক্ষেত্রে আসিয়ান প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। বাংলাদেশের জন্য এটি ইতিবাচক কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনও কখনও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। আনোয়ার ইব্রাহিম ও জিয়া পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে। “আমার বন্ধু মহাজাদু জানে” গানের ব্যবহার অনেকের কাছে নিছক রোমান্টিক বা নস্টালজিক উপস্থাপনা মনে হতে পারে। কিন্তু কূটনৈতিক যোগাযোগে প্রতীকী ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। গানটি যেন ইঙ্গিত করছে- রাজনীতির কঠোর বাস্তবতা, সংগ্রাম, প্রত্যাবর্তন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জটিল পথ পেরিয়ে বন্ধুত্ব, আস্থা ও সহযোগিতার নতুন এক অধ্যায় সূচিত হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নানা অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে একটি দেশকে কেবল এক বা দুই শক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকলে চলে না। বহুমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হয়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে এ প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, এটি কেবল সৌজন্য সফর নয়; বরং বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত বহন করে।

মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি, আসিয়ানের প্রভাবশালী সদস্য এবং বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার হিসেবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন কৌশলগতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর একটি। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ- প্রথমত, বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য দেশ মালয়েশিয়া। দ্বিতীয়ত, দেশটি ইসলামী অর্থনীতি, হালাল শিল্প, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মডেল তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, মালয়েশিয়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সফল একটি উদাহরণ। চতুর্থত, আসিয়ান অঞ্চলের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রেও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে। যদি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়, তাহলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত নতুন বাজারের সুযোগ পেতে পারে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের সবচেয়ে মানবিক দিক হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান। দীর্ঘদিন ধরেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নানা জটিলতা দেখা গেছে। সরকার যদি দক্ষ কর্মী প্রেরণের ওপর গুরুত্ব দেয়, তাহলে বাংলাদেশ কেবল স্বল্পদক্ষ শ্রমিক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদের উৎস হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবাস, বিরোধী রাজনীতির কঠিন বাস্তবতা অতিক্রম করে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ‘মহাজাদু’ গানটির ব্যবহার বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

রাষ্ট্রীয় কূটনীতির অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক উপাদানকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিদেশে বাংলাদেশি শিল্পীদের অনুষ্ঠান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রচার, চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মালয়েশিয়ার ভিডিওতে একটি বাংলা গানের ব্যবহার আমাদের সেই সম্ভাবনার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো নেতার ভাবমূর্তি গঠনে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তাই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের এই সফর এবং আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রকাশ্য ইতিবাচক মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর নেতৃত্বের একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে বলা যায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর কার্যক্রম এখন থেকে দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তির সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকবে।

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনের দালিয়ান শহরে গমন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উন্মোচন করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়ায় এই ধারাবাহিক সফর কেবল সময়সূচির বিষয় নয়; বরং এটি একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা বহন করে- বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসরকে বহুমাত্রিক কাঠামোয় সম্প্রসারণ করতে চায়।

চীন বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ খাত, রেলপথ, সড়ক যোগাযোগ এবং শিল্পায়নে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মালয়েশিয়া ও চীন—এই দুই দেশের সফরকে একসাথে বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে: বাংলাদেশ এখন একমুখী নির্ভরশীলতা থেকে সরে এসে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক ভারসাম্যের পথে হাঁটছে। এই ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ নয়। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো-জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি সম্পর্ককে সমান গুরুত্বের ভিত্তিতে পরিচালনা করা।

আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ান এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ আলোচনার যে অঙ্গীকার এসেছে, তা নতুন আশার আলো জাগায়। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় সক্রিয় রাখা এবং এর রাজনৈতিক সমাধানের জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। মালয়েশিয়ার মতো প্রভাবশালী আসিয়ান সদস্য দেশের সক্রিয় ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হতে পারে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে ‘মহাজাদু’ গানের ব্যবহার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন যাত্রার ইঙ্গিত করে। বাংলাদেশের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হলো এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। কূটনৈতিক সম্পর্ককে অর্থনৈতিক অর্জনে রূপান্তর করা, আর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে কাজে লাগানো।

(ঢাকাটাইমস/২৪জুন/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
মুদি দোকান, বিউটি পার্লারসহ ১৬ খাতে ভ্যাটের নির্দিষ্ট করের পরিকল্পনা
জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত  চৌক্কার খাল নামমাত্র খনন, তিন কোটি টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ
৮১২ কোটি টাকার মসুর ডাল ও ভোজ্য তেল কিনছে সরকার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা