"মঞ্চের পাশে তিনটি ছুরি"

মাহাবুব মোর্শেদ রিফাত
  প্রকাশিত : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩
অ- অ+

সাংবাদিকতার ইতিহাস সামনের সারির চেয়ার পাওয়ার ইতিহাস না। এই পেশার সেরা গল্পগুলো জন্ম নিয়েছে বন্ধ দরজার সামনে, পোড়া স্কুলের উঠানে, যুদ্ধের ধোঁয়ার ভেতরে, ক্ষমতার অফিসের ফেলে দেওয়া কাগজে। ওয়াটারগেটে দুই তরুণ রিপোর্টার একটা সাধারণ চুরির খবরের পেছনে হাঁটতে হাঁটতে হোয়াইট হাউসের দরজা পর্যন্ত গিয়েছিলো। তারা রাগকে রিপোর্ট বানায়নি, নথি মিলিয়েছে, তারা সোর্স মিলিয়েছে, নিজেদের সন্দেহকেও বারবার সন্দেহ করেছে। শেষ পর্যন্ত এক প্রেসিডেন্টের চেয়ার নড়ে গেছে, কারণ প্রেসকার্ডগুলো চিৎকার করেনি, প্রমাণ জোগাড় করেছে।

এই বাংলাদেশেও এক তরুণ প্রতিবেদক ক্ষমতাবানের পায়ের ছাপ খুঁজছিলো। সেই রিপোর্টের পর তাকে তুলে নিয়ে লাঠি, হকিস্টিক, লোহার রড দিয়ে পেটানোও হয়েছিলো। তার লেখার হাতটা আলাদা করে ভাঙার চেষ্টাও করা হয়েছিলো, যেন সত্যের সুইচটাই বন্ধ করে দেওয়া যায়। তিনি বেঁচে ফিরলেন, আবার লিখলেন। এটাই সাংবাদিকতার পুরোনো ইতিহাস, সত্য লিখলে হাত ভাঙে, কিন্তু কলম বিক্রি হয় না।

এখনকার নতুন সিলেবাস একটু সহজ। প্রেস কনফারেন্সে ঢুকতে না পারলে সিন্ডিকেট লিখুন, ফোন বন্ধ পেলে প্রতারণা লিখুন, প্রমাণ না পেলে বিশেষণ বাড়ান। তারপর নিজের রাগের গায়ে জনগণের স্বার্থের পাঞ্জাবি পরিয়ে স্টুডিওর আলোতে বসে পড়ুন। ব্যস, সাংবাদিকতা একদম রেডি।

এবার আসুন পুরোনো হওয়া গল্পের দিকে ক্যামেরার ফ্রেমটা ধরি!

২৩ জুলাই ২০২৬!

আতিফ আসলামের কনসার্টের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলন। হোটেলের ঠান্ডা করিডরে কিছু সাংবাদিক দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে কয়েকজন ইউটিউবার ঢুকছে, বাইরে আটকে আছে নিজেরাই নিজেদের ট্যাগ দেওয়া কিছু মূলধারার ক্যামেরা। কারও নাম তালিকায় আছে, কারও নাম নেই। ফোন যাচ্ছে, উত্তর আসছে না, ওইদিকে ক্ষোভও মনে হয় জমছে।

এই ক্ষোভটা অবশ্য বৈধ। সংবাদ সম্মেলনে কাকে ডাকা হলো, কাকে আটকালো, পেশাদার ক্যামেরা ঢুকলো না কেন, সিলেকশন পলিসি কী, আয়োজক পরিষ্কার জবাব কিন্তু দেয়নি।

কিন্তু এই সিনেমায় ক্ষোভ বেশিক্ষণ ক্ষোভ থাকেনি, রাত পার হওয়ার পরেই সে মেকআপ করে এভিডেন্স হয়ে গেছে। এর পরেই খবর বের হলো টাকা খাইয়ে ইউটিউবার ঢোকানো হয়েছে, প্রেস মিট বিক্রি হয়ে গেছে, শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, আয়োজক দলের একজনের বিরুদ্ধে পুরোনো টাকা আত্মসাতের অভিযোগও হেডলাইনের হাঁড়িতে ঢালা হলো। কিন্তু টাকা কে দিলো, কাকে দিলো, কত দিলো, কোন অ্যাকাউন্ট দিয়ে দিলো, কোনো মেসেজ আছে কি না, রিসিট আছে কি না, উইটনেস আছে কি না, মামলা আছে কি না, অডিট আছে কি না, এসব বিরক্তিকর জিনিস প্রতিবেদনের রোমাঞ্চ নষ্ট করতে পারে বলে সম্ভবত বাদ দেওয়া হলো তার সেই থ্রিলিং রিপোর্ট থেকে।

প্রমাণের জায়গায় পাওয়া গেলো একটা বন্ধ ফোন।

আমাদের নতুন ডিজিটাল ফরেনসিকস খুবই সাশ্রয়ী, তিনবার কল দিন, ফোন বন্ধ পেলেই অভিযোগ সত্য, মেসেজ সিন না হলে অপরাধী পলাতক, আর রিপোর্টার অপমানিত হলেই বিচারক, জুরি, এক্সিকিউশনার, তিন পদের চাকরিই একসঙ্গে পাওয়া যায়। একটা বন্ধ দরজা অবশ্যই খবর, কিন্তু বন্ধ দরজা দুর্নীতির প্রমাণ না। একজন সাংবাদিককে অপমান করা অন্যায় হতে পারে, কিন্তু সেই অপমানকে পাঠকের চোখে ঘুষের ট্রানজেকশন বানাতে এভিডেন্স লাগে। প্রেসকার্ড কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট না, প্রেসকার্ড কাউকে ব্যাকস্টেজের জন্মগত মালিকও বানায় না। একইভাবে আয়োজক কোনো সাংবাদিককে ডেকে এনে দরজায় দাঁড় করিয়ে অপমান করবে, পরে ফোন বন্ধ রাখবে, এই অধিকারও টিকিটের সঙ্গে ফ্রিতে আসে না।

এখানে প্রথম ছুরিটা দেখা যায়। ছুরিটার নাম আহত ইগো, ছুরির হাতলে লেখা জার্নালিজম, ব্লেডে মাখানো হোস্টাইল পিআর!

কিন্তু ক্রাইম সিনে আরেকটা ছুরি আছে, সেই ছুরি আবার আয়োজকদের।

২৪ জুলাইয়ের আতিফ আসলামের কনসার্টের ভেন্যু এক দিন আগে বদলানো হয়। আয়োজকেরা বলে, বৃষ্টিতে আগের জায়গায় স্টেজ বানানো সম্ভব না, দর্শকের নিরাপত্তার জন্য নতুন জায়গা। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, অনুমোদন ছিলো আগের ভেন্যুর জন্য, নতুন ভেন্যুতে যাওয়ার আগে অনুমতি নেওয়া হয়নি। দর্শকের অভিযোগও কম না, লম্বা এন্ট্রি লাইন, ভিআইপি টিকিট কেটে স্টেজ ভিজিবিলিটির ঝামেলা, বৃষ্টি থেকে রক্ষার দুর্বল ব্যবস্থা, বেসিক ফ্যাসিলিটি নিয়ে ক্ষোভ। এগুলো কোনো বানানো গল্প না, এগুলোর উত্তর আসলেই লাগবে।

আয়োজক যদি পারমিট ভাঙে, শাস্তি হতে হবে। ভেন্যু চেঞ্জের লিখিত অনুমতি যদি না থাকে, জবাবদিহি করতে হবে। নিরাপত্তা পরিকল্পনা দুর্বল হলে তদন্ত করতে হবে। দর্শকের টাকা নিয়ে ঠিকঠাক সার্ভিস না দিলে রিফান্ড আর কমপেনসেশনের পরিষ্কার টাইমলাইন থাকতে হবে। পাবলিসিটির সময় মিডিয়া লাগে কিন্তু ক্রাইসিস টাইম এলে ফোন এয়ারপ্লেন মুড, এই চালাকি বন্ধ হতে হবে। কারণ দর্শক টিকিট কিনে শুধু গান শুনতে আসে না। সে নিজের কয়েক ঘণ্টা জীবন কিনে আনে, সেই জীবনের দাম আছে, তাকে লাইনে পচিয়ে, ভিজিয়ে, শব্দের জগাখিচুড়ি খাওয়ার পরে একটা থ্যাংক ইউ পোস্ট দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না।

তাই দ্বিতীয় ছুরিটার নাম অব্যবস্থাপনা। এই ছুরির হাতলে প্রেসকার্ড নেই, ছুরির গলায় এখানে অল অ্যাক্সেস ইভেন্ট পাস ঝুলে।

এবার আসুন তৃতীয় ছুরির দিকে মন দিই! এই ছুরিটা সবচেয়ে ঠান্ডা, কারণ এটা মানুষের হাতে দেখা যায় না, থাকে ফাইলের ভেতরে!

২৬ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়, সেখানে অনুমতি ছাড়া ভেন্যু বদল, বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাঝুঁকি, অপর্যাপ্ত সুবিধা, দর্শকের ক্ষোভের কথা বলা হয়। তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা, এমনকি ব্ল্যাকলিস্ট করার কথাও এসে পড়ে। এই পর্যন্ত রাষ্ট্র নিজের কাজ করছে, অভিযোগ গুরুতর হলে তদন্ত হবেই। কিন্তু ফাইলের এক কোণায় ঢুকে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাকল্যাশ আর নেগেটিভ মিডিয়া কভারেজ।

এই দুইটা শব্দ দেখেই থ্রিলারের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর বদলে যায়!

সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষোভ এলার্ম হতে পারে, এভিডেন্স না। নেগেটিভ কভারেজে তদন্তের দরজা খুলতে পারে, কিন্তু এটা তদন্তের ভারডিক্ট না। ফেসবুক কমেন্ট যদি ইনসিডেন্ট রিপোর্ট হয়, হেডলাইন যদি সিকিউরিটি অ্যাসেসমেন্ট হয়, তাহলে গোয়েন্দা সংস্থার অফিসে তালা ঝুলিয়ে অ্যাডমিনে দুইজন মডারেটর বসিয়ে দিলেই রাষ্ট্রের অনেক খরচ বেঁচে যায়।

এই দেশে অভিযোগের যাত্রাপথ এখন খুব সুন্দর।

প্রথমে ফেসবুকে জন্ম নেয়, এরপর নিউজরুমে গিয়ে জন্মনিবন্ধন পায়, হেডলাইন হওয়ার পরে পাসপোর্ট পায়, মন্ত্রণালয়ে ঢুকে সরকারি সিল মারে। তারপর কোনো মঞ্চের দরজায় গিয়ে বলে, আপনার ভিসা বাতিল!

এর কয়েক দিনের মধ্যেই ১ আগস্টের অনুপম রায়ের কনসার্ট বন্ধের ঘোষণা আসে। আয়োজকেরা বলেছিলেন, প্রয়োজনীয় অ্যাপ্রুভালের কাজ শেষ। এই একই অনুষ্ঠান ২৬ জুনও শেষ মুহূর্তে থামানো হয়েছিলো। এবারও কারণের জায়গায় সেই দুই শব্দ, অনিবার্য কারণ।

আগের নেগেটিভ কভারেজই এই পরের কনসার্ট বন্ধ করিয়েছে, এমন সরাসরি প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে নেই। দুই ঘটনার মানুষ একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা করছে, এমন নথিও নেই। তাই ষড়যন্ত্রকে ফ্যাক্ট বানানো যাবে না। কিন্তু টাইমলাইন? টাইমলাইনটা প্রশ্ন তুলবেই। ২৬ জুলাইয়ের সরকারি চিঠিতে নেগেটিভ কভারেজ প্রশাসনিক বিবেচনার অংশ হলো, কয়েক দিনের মধ্যেই আরেকটা স্টেজ ব্যাখ্যা ছাড়া বন্ধ হলো। তো এই কাহিনির মাঝখানে কোন রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট কাজ করলো, কার রিকমেন্ডেশন গেলো, কোন নতুন থ্রেটটা আসলে পাওয়া গেলো, রাষ্ট্র এখানে আবার কিছুই দেখায় না।

সিনেমায় খুনিকে না দেখালেও রক্তের দাগ কিন্তু দেখানোই যায়। দাগকে তো আর খুনি বলা যায় না, কিন্তু দাগের ওপর কার্পেট বিছিয়ে বসে চা-ও খাওয়া যায় না।

এখানে সরকারের পুরোনো ম্যাজিক কাজ করছে। কারণ জানাতে হবে না, অনিবার্য লিখলেই কারণ নিজে নিজে পর্দা টেনে ঘুমাবে। শব্দটা এমন, যেন আকাশ থেকে একটা অদৃশ্য আমলা নামে, স্টেজের মেইন সুইচ বন্ধ করে, এরপর মেঘের ভেতরে ফেরত যায়।

“অনিবার্য কারণ” আসলে রাষ্ট্রের বাংলা সিনেমার সবচেয়ে সাকসেসফুল ভিলেন। তার কোনো মুখ নেই, কোনো অ্যাড্রেস নেই, কোনো রাইট অফ রিপ্লাই নেই, সে পারমিটের উপরে বসে থাকে, টিকিটের উপরে দাঁড়িয়ে থাকে, শিল্পীর ভিসার উপরেও বসতে চায়। শেষে দর্শকের পকেট থেকে টাকা, মাথা থেকে বিশ্বাস, শহর থেকে গান, তিনটাই তুলে নিয়ে যায়।

এবার কিন্তু ক্রাইম সিনটা পরিষ্কার।

এক পাশে আহত ইগো থেকে জন্ম নেওয়া প্রমাণহীন অভিযোগ, আরেক পাশে আয়োজকের বাস্তব অব্যবস্থাপনা আর পারমিট নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন, মাঝখানে রাষ্ট্রের অস্বচ্ছ ফাইল। তিনটা এক জিনিস না, তিন পক্ষের দায়ও এক না, তাদের গোপন বৈঠকের প্রমাণও আবার নেই, কিন্তু মঞ্চের লাশের পাশে ওই তিনটা ছুরিই পড়ে আছে।

এখানে সত্য সাংবাদিকতার কাজ ছিলো ছুরির মালিককে খোঁজা।

কে কাকে টাকা দিলো, ব্যাংক ট্রেইলের একদম শুদ্ধ এভিডেন্স কোথায়, উইটনেস কে, পারমিটের মূল কপি কোথায় গেছে, ভেন্যু চেঞ্জের আবেদন আসলেই গিয়েছিলো কি না, পুলিশ ডিপ্লয়মেন্ট কে অ্যাপ্রুভ করেছিলো, ইনসিডেন্ট লগ কী বলে, মন্ত্রণালয়ের রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট কার ফাইলে, এই কাগজগুলোর সহি ও শুদ্ধ হদিস বের করা!

সত্য সাংবাদিকতা অফেন্ডেডের ক্লোজ শট না, সত্য সাংবাদিকতা হলো ডকুমেন্টের এক্সট্রিম ক্লোজ শট! ওয়াটারগেটের দুই রিপোর্টার নিজেদের অপমানের গল্প লেখেনি, তারা ক্ষমতার মিথ্যার দুনিয়ার আর্কিটেকচার খুলে দিয়েছে। ফেনীর সেই প্রতিবেদক সামনের চেয়ার পাননি বলে রক্ত দেননি, পোড়া স্কুলের ভেতরে থাকা ক্ষমতার পায়ের ছাপ দেখেছিলেন বলেই তার লেখার হাত ভাঙা হয়েছিলো।

আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার নীতিমালা কিন্তু খুব কঠিন কোনো কবিতা না। ফ্যাক্ট আর কমেন্ট আলাদা রাখুন, ভেরিফিকেশনের আগে আর্জেন্সিকে যেতে দেবেন না, সব পক্ষের কথা নিন, সোর্স ক্রস চেক করুন। ভিত্তিহীন অভিযোগ ছাপিয়ে পরে ছোট করে দুঃখিত বললে পাপ ধোয়া যায় না, ভুল হেডলাইন যে রিচ দিয়েছে, কারেকশনও একই রিচে যেতে হবে, কীভাবে নেবেন ওই প্রিপারেশন তো আসলে আপনাদের।

অথচ আমাদের শর্টকাট নিউজরুম চলে উল্টো!

আগে ভারডিক্ট লিখুন, পরে ফোন দিন, ফোন বন্ধ পেলে কিবোর্ডের বাটন চেপে ভারডিক্ট বোল্ড করুন, শেষে এক লাইনে লিখুন, বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই এক লাইন এখন সাংবাদিকতার ন্যাশনাল ডিটারজেন্ট, সব ময়লা ধুয়ে দেয়।

না, আয়োজককে বাঁচানোর জন্য এই লেখা না। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে প্রকাশ করুন, টাকা আত্মসাতের নথি থাকলে মামলা করুন, পারমিট ভাঙলে ব্ল্যাকলিস্ট করুন, দর্শককে ঠকালে ক্ষতিপূরণ আদায় করুন। কিন্তু চেয়ার না পাওয়ার ক্ষোভকে ঘুষের গল্প বানিয়ে, সেই গল্পকে পাবলিক ইন্টারেস্টের পারফিউম মাখিয়ে বাজারে ছাড়লে ওটাকে জার্নালিজম বলে না, ওটাকে বলে রিভেঞ্জ কন্টেন্ট!

আর রাষ্ট্রকেও গান বন্ধ করার আনলিমিটেড রিমোট কন্ট্রোল আর দেওয়া যায় না। মন্ত্রণালয় প্রকাশ করুক মূল পারমিট, ভেন্যু নিয়ে পাওয়া বা না পাওয়া আবেদন, ফিল্ড ইন্সপেকশন রিপোর্ট, পুলিশ ইনসিডেন্ট লগ, নির্দিষ্ট সিকিউরিটি অ্যাসেসমেন্ট, আর ১ আগস্টের অনুষ্ঠান বন্ধের সুস্পষ্ট লিখিত কারণ। আয়োজকেরা প্রকাশ করুক ক্রেডেনশিয়াল পলিসি, সেফটি প্ল্যান, ভেন্যু কমিউনিকেশনের কাগজপাতি, অভিযোগের জবাব, রিফান্ড টাইমলাইন। অভিযোগ প্রকাশকারী গণমাধ্যম দেখাক ট্রানজেকশন ট্রেইলের ডিটেইল, ভেরিফাইড সোর্স, মামলা, অডিট, মেসেজ আর ডকুমেন্ট। না দেখাতে পারলে কারেকশন দিতে হবে একই কালারে, একই ফন্ট সাইজে, একই রিচে, একই সাহস নিয়ে। কারণ সাহস মানে জোরে কথা বলা না, সাহস মানে নিজের পছন্দের গল্পটাকেও ভুল প্রমাণ করাবার চেষ্টা করা, যেন সত্য সুন্দরটা সত্যের মতোই সুন্দর হয়।

এই গল্পটার শেষ দৃশ্যে একটা খালি স্টেজ দাঁড়িয়ে আছে!

লাইট ঝুলে আছে, মাইক্রোফোন দাঁড়িয়ে আছে, ক্যাবলগুলো স্টেজের পাটাতনের উপরে সাপের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে, বাইরে টিকিট হাতে কয়েক হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, এক পাশে প্রেস কার্ড, আরেক পাশে অল অ্যাক্সেস ইভেন্ট পাস, মাঝখানে সরকারি ফাইল। তিনজনেই চেঁচিয়ে বলছে, ছুরিটা আমার না। ভাগ্যিস মঞ্চ কথা বলতে পারে না, এই মঞ্চের এমন দাঁড়িয়ে থাকার পোস্টমর্টেম রিপোর্টও কেউ প্রকাশ করে না।

শুধু শহরের উপরে দুইটা শব্দের শিরোনামে “অনিবার্য কারণ”!

তারপর অন্ধকার, পরের দিন বাজারে আবার নতুন একটা থ্রিলিং হেডলাইন!

লেখক: ফিল্ম মেকার

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডিএমপির ৩ থানার ওসি বদলি
তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা