বগুড়া-১: আ.লীগে মান্নান-সুমন, বিএনপিতে রফিক-শোকরানা-জাকির

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে
 | প্রকাশিত : ১০ জুন ২০১৭, ০৯:০২

আগামী সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়নি এখনও। কিন্তু বসে নেই বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান। পুরদোস্তর জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। এলাকায় জনসভা, কর্মী সভায় আগামী নির্বাচনেও এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকায় আস্থা রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি নেতাকর্মীকে আরও সক্রিয় এবং নির্বাচনীমুখী করার জন্য তাদেরকে অনুপ্রাণিত করছেন।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ার এই আসনটি ২০০৯ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দখল করে আওয়ামী লীগ। নৌকা প্রতীকে জিতেন আব্দুল মান্নান। ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি না আসার সুফল তিনি আবারও পেয়ে যান। আগামী সংসদ নির্বাচনে জিতে হ্যাটট্রিক করতে চান মান্নান।  

তবে গত দুইবারের মত মান্নান আওয়ামী লীগের নিশ্চিত প্রার্থী এমন বলার সুােগ নেই। কারণ, সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলমগীর শাহী সুমনও নির্বাচনে আগ্রহী। এরই মধ্য জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

সুমন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নৌকায় মনোনয়ন আমিই পাব এবার। তৃণমূলের নেতা কর্মীরা আমার হয়ে মাঠে কাজ করছে। তাদের দাবি কেন্দ্র ফেলতে পারবে না।’

তবে বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, আওয়ামী লীগকে মনোনয়ন পরিবর্তন করতে হবে-এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘নৌকার টিকিট আমিই পাব। আমি জনগণের জন্য কাজ করেছি, এখনও কওে যাচ্ছি। সারিয়াকান্দি-সোনাতলার অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলো শেষ করার জন্য জনগণ আমাকে বিজয়ী করবে।

বিএনপিতে আলোচনায় তিন জন

ক্ষমতাসীন দলের দখল থেকে আসনটি উদ্ধারে ছক কষছে বিএনপি। তবে ধানের শীষ কার হাতে তুলে দেয়া হবে সে বিষয়ে ধারণা দিতে পারছেন না নেতারা। দলের তিন জন নেতাই দাবি করছেন, যোগ্য প্রার্থী তারাই।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বিএনপি থেকে এবারও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নেতাকর্মীদের মন চাঙ্গা করার জন্য নির্বাচনী এলাকার দুই সহ¯্রাধিক কর্মী সমর্থকদের মধ্যে রোজা ও ঈদ উপলক্ষে পণ্য সামগ্রী নেতাকর্মীর মধ্য বিতরণ করেছেন।

 

রফিকুল বলেন, ‘আমি আবার নির্বাচিত হলে বেগম জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করে এলাকায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করব।’

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানাও সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। তার কর্মী সমর্থকরাও নানাভাবে সক্রিয়। দীর্ঘদিন সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরে দলীয় কোন অফিস না থাকলেও মাস খানেক পূর্বে চন্দন বাইশা রোডে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেটি থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছেন শোকরানা।

ঢাকাটাইমসকে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন বগুড়া বিএনপিকে গতিশীল রাখতে কাজ করেছি। সুতরাং যে যাই বলুকনা কেন এবার কেন্দ্র আমাকেই বেঝে নেবে।’

মাঠে বিএনপির আরেক নেতা এ কে এম আহসানুল ত্যৈয়ব জাকিরও মাঠে সক্রিয়। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে সোনাতলা উপজেলার বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দুই বার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

জাকির ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি বিএনপিকে সংঘবদ্ধ রাখতে দলীয় সব কর্মসূচি পালন করেছি, কর্মীদের নিয়মিত খোঁজ খবর নিয়েছি। আশা করি আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে জনগণের সমর্থন ও ভোটে জয়ী হব।’

জাতীয় পার্টির এই আসনে তেমন সক্রিয় অবস্থান না থাকলেও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মোকছেদুল আলম মাস্টার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্য তিনি বিভিন্ন স্থানে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চেয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ঢাকাটাইমস/১০জুন/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত