২১ আগস্টের মামলায় এক আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৭, ১৭:৫২

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সোমবার কারাগারে থাকা আসামি সাহাদাত উল্লাহ জুয়েল আত্মপক্ষ শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে নির্দোষ দাবি করে বিচার প্রার্থনা করেছেন।

এদিন ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ আসামির আত্মপক্ষ শুনানি শেষে অপর আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।

বিচারক আত্মপক্ষ শুনানি গ্রহণের আগে আসামি জুয়েলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পড়ে শোনান। এরপর বিচারক তার কাছে জানতে চান, তিনি দোষী না নির্দোষ? জবাবে জুয়েল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিচার প্রার্থনা করেন।

এর আগে গত ৩০ মে মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এ আত্মপক্ষ শুনানির দিন ধার্য করেন।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌশলী সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান, মামলাটিতে মোট ৪০৮ জন তালিকাভুক্ত সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্টপক্ষ মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য যেসব সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা প্রয়োজনীয় শুধু সেসব সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।

মামলাটিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ওই বছর ২৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তের নির্দশ দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩ জুলাই অধিকতর তদন্ত শেষে তারেক রহমাসসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

২০১২ সালের ১৮ মার্চ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সম্পূরক চার্জশিটের ৩০ আসামির অভিযোগ গঠন করে ফের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।

অন্যদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জন কারাগারে রয়েছে। মামলার আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের নির্মম মৃত্যু হয়। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক শতাধিক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

(ঢাকাটাইমস/১২জুন/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত