চামড়াশিল্পের সব কিছু এক মেলায়

জহির রায়হান
| আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:০৪ | প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৪

চামড়ারশিল্পের কারখানা কীভাবে করতে হবে, মেশিনারিজ কীভাবে পাওয়া যাবে, ট্যানারি কীভাবে করতে হবে এসবই জানাতে রাজধানীতেই চলছে প্রদর্শনী। এক কথায় বলতে গেলে এই প্রদর্শনী চামড়া খাতের জন্য একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস।
চামড়াশিল্পের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে চলছে তিন দিনের প্রদর্শনী ‘লেদারটেক বাংলাদেশ’। মেলায় বাংলাদেশের চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও ফুটওয়্যার শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারি, কেমিক্যাল ও এক্সেসরিজ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রযুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। আজ মেলার শেষ দিন। 
সম্মেলনকেন্দ্রের চারটি হলজুড়ে বিস্তৃত এই প্রদর্শনীতে ঘুরে দেখা গেছেÑ ফ্যাক্টরিতে যেভাবে চামড়ায় নকশা করা হয়ে সেভাবেই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নকশা করা হচ্ছে ফিনিস চামড়ার ওপরে। কোথাও লেজার মেশিন দিয়ে কম্পিউটারের কমান্ডে ডিজাইন করা হচ্ছে। জুতা সেলাই করা হচ্ছে। 


সিনগাভাই সু এক্সেসোরিজের সহকারী ম্যানেজার কামরুজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের কাছে ধারণা দিলে সে অনুযায়ী জুতার ডিজাইন তৈরি করে দিতে পারব । পরবর্তীতে উৎপাদনকারী সে ডিজাইনে বেশি করে জুতা তৈরি করতে পারবে।
প্রদর্শনীতে কথা হয় এন এম ইমপেক্স অ্যান্ড মেশিনারি লিমিটেডের মার্কেটিং কর্মকর্তা সোয়েবের সঙ্গে। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, তাদের কাছে এমন মেশিন রয়েছে যেখানে কম্পিউটারে নির্দেশনা অনুয়ায়ী চামড়ার জুতার কাটিং ও সেলাই হয়ে যাবে। লেবেল লাগানো থেকে শুরু করে চামড়ার ব্যাগ, জুতাসহ ফিনিশিংয়ের সব প্রযুক্তি পণ্যই আছে আমাদের। ভালোই সাড়া পাচ্ছি আমরা। উদ্যোক্তারা বুঝতেছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পণ্যের গুণাগুণ ভালো হয়। দামও বেশি পাওয়া যায়। 


প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন্সের পরিচালক নন্দ গোপাল কে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লক্ষ নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চামড়া খাতের পরিসর যেমন বাড়ছে তেমনি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ছে। এ ট্রেড শো টেকনোলজি এবং মেশিনারি, ফিনিশড লেদার সোর্সিংয়ের জন্য এ শিল্পের বিস্তার এবং আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু তুলে ধরেছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই ফাউন্ডেশন) এ প্রদর্শনিতে অংশ নিয়েছে। এ স্টলে স্টলে তিনজন উদ্যোক্তাদের পণ্যে সাজানো। কথা হয় পিপলস্ ফুটওয়্যার অ্যান্ড দেলার গুডসের ডিরেক্টকর জেবিন হাফিজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এমন প্রদর্শনী আমাদের জন্য একটি মিলনমেলা। আমরা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছি। এ সেক্টরের লোক সবাই এক সঙ্গে হচ্ছি।’ তার প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে লেদার পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দেয় বলে জানান জেবিন হাফিজ।
শাবাব লেদারের উদ্যোক্তা মাকসুদা খাতুন বলেন, তিনি বর্তমানে বিভিন্ন বায়িং হাউসের মাধ্যমে বিদেশে বিভিন্ন চামড়ার ব্যাগ, মানি ব্যাগ রপ্তানি করে থাকে। এ কাজে তার স্বামী তাকে সহোযোগিতা করছেন। এ ধরনের মেলায় সব প্রযুক্তি এক সঙ্গে দেখা যায়। হাতে কলমে জানা যায় এসব সম্পর্কে। উদ্যোক্তারা মেশিন দেখে অর্ডার করতে পারছে। 
৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ফিনিশড লেদার, ট্যানিং লেদারের জন্য মেশিনারি, ম্যানুফ্যাকচারিং ফুটওয়্যার, চামড়াজাত পণ্যসহ এর সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উপস্থাপন করছে ।

অংশগ্রহণকারী প্যাভিলিয়নগুলোর একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে ভারতের সিএলই এবং আইএফসিএমমএ’র প্যাভিলিয়ন, চীনের ওয়েনঝোঁও অ্যান্ড জিনজিয়াং অ্যাসোসিয়েশনের প্যাভিলিয়ন এবং পাকিস্তান ট্যানারস অ্যাসোসিয়েশনের (পিটিএ) এক্সক্লুসিভ ফিনিশড লেদার প্যাভিলিয়ন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ, কোরিয়া, তুরস্ক, মিসর, ভিয়েতনাম, যুক্তরাজ্য, শ্রীলঙ্কা, ইতালি, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, জাপান, তাইওয়ান, হংকংসহ প্রায় ২০টি দেশের প্রতিষ্ঠান। বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিনামূল্যে সবার জন্য প্রদর্শনীটি উন্মুক্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, মানের ওপর পণ্যের দাম নির্ধারণ হয়। আর সেজন্য বুদ্ধিমত্তা দরকার। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দরকার। সরকার এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সর্বাত্মক সহোযোগিতা করবে।

(ঢাকাটাইমস/০২নভেম্বর/জেআর)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :