‘সড়কে চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলায় এনায়েত উল্লাহর লোকেরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:০৮

ঢাকা শহরে মিনি বাস সার্ভিসগুলোতে একক মালিক সমিতির নামে প্রতিদিন চাঁদাবাজি চলছে। এসব চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাস মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তার লোকেরা সরকারের ভেতরে থেকে পরিবহন ধর্মঘটের নামে সড়কে বিশৃঙ্খলা করছে। তাদের কারণে সাধারণ গাড়ির মালিকরা এখন জিম্মি।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলী খালেক সিটির দ্বিতীয় তলায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান।

১৬ বছর ধরে সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নামে চাঁদাবাজি চলছে উল্লেখ করে মোস্তাকুর বলেন, ‘১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে সমগ্র বাংলাদেশের টার্মিনালগুলো দখল করে পরিবহন সেক্টরে লুটপাটের রাজনীতি শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নামে ২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি করে আসছে। মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক নামধারী মালিক নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ঢাকা শহরের মিনি বাস সার্ভিসগুলোতে একক মালিক সমিতি কমিটি দিয়ে প্রতিদিন গাড়িপ্রতি এক হাজার থেকে ১২'শ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলেন। আবার সেসব নেতাই বর্তমান সরকারের ভেতরে থেকে পরিবহন ধর্মঘটের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অবৈধ চাঁদাবাজি বহাল রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।’

মোস্তাকুরের দাবি, ‘নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়ন করতে হলে কথিত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা শ্রমিকদের জিম্মি করে নিজেদের ফায়দা লুটছে।’

বর্তমান আইনে সড়ক পরিবহন মোটর শ্রমিকদের আশা-আকাঙ্ক্ষার তেমন কোনো বাস্তবায়ন ঘটেনি জানিয়ে এই পরিবহন নেতা বলেন, ‘আমরা মোটর শ্রমিকরাও নিরাপদ সড়ক চাই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এই আইনে সড়ক পরিবহন মোটর শ্রমিকদের আশা-আকাঙ্ক্ষার তেমন কোনো বাস্তবায়ন ঘটেনি। সড়ক পরিবহন আইনে ১৪টি অধ্যায় ও ১২৫টি ধারার মধ্যে ৫২টি ধারায় শ্রমিকদের শাস্তির বিধান সম্পর্কিত। অথচ দুর্ঘটনার জন্য সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, সড়ক ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রকৌশলী, বিআরটিএ, গাড়ির মালিক, সড়কের বেহাল অবস্থা, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা ও যত্রতত্রভাবে পথচারী পারাপার উল্লিখিত সবাই কোনো না কোনোভাবে দায়ী। কিন্তু শুধু এককভাবে চালককে দায়ী করলে নিরাপদ সড়কের সমস্যার সমাধান কোনোভাবে সম্ভব নয়। যা প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন বক্তব্যে সড়ক দুর্ঘটনার নেপথ্যে পথচারী ও যাত্রীদের অসতর্কতার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ৪০ লাখেরও বেশি। কিন্তু লাইসেন্সপ্রাপ্ত ড্রাইভারের সংখ্যা মাত্র ২৭ লাখের মতো। প্রায় ১৩ লাখ ড্রাইভার লাইসেন্সবিহীন বা অবৈধ উপায়ে লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাতে বাধ্য হচ্ছে, তার প্রধান কারণ এর সাথে বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের দৌরাত্ম্য। যেখানে একজন মোটর শ্রমিক প্রকৃতভাবে তার লাইসেন্স পেতে অনেক প্রতিকূলতা ও হয়রানির শিকার হতে হয়।’

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘শ্রম আইনে আছে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক না দিয়ে কোনো শ্রমিক নিয়োগ করা যাবে না। কিন্তু ৫০ লাখের বেশি শ্রমিকের মধ্যে অধিকাংশের কাছেই কোনো নিয়োগপত্র কিংবা পরিচয় পত্র নেই। যারা শ্রমিকদের এই সকল আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে কি আদৌ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? আমরা শ্রমিকদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের শাস্তির আগে তাদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন চাই।’

শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে ও ভাগ্যোন্নয়নে সাতটি দাবির কথা তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো-

১. যোগ্য মটর শ্রমিক গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উন্নত ট্রেনিং সেন্টার দিতে হবে। যেটি সরকারি তত্ত্বাবধানে এবং বৈধ শ্রমিক ফেডারেশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। এর ফলে ট্রেনিং সেন্টার থেকে একজন মোটর শ্রমিক রোড চলাচলের সিগন্যাল, বিভিন্ন ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন, সুন্দর আচরণ, গাড়ির প্রাথমিক ত্রুটিসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং তার সমাধান, মোটর শ্রমিকদের জন্য ড্রেসসহ সার্টিফিকেট প্রদান ও সর্বোপরি বৈধ লাইসেন্স এর ব্যবস্থা ওই ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

২. ট্রেনিং সার্টিফিকেট, বৈধ লাইসেন্স, নাগরিকত্বের সনদ, শ্রমিক কার্ড এবং শ্রমিক সংগঠন থেকে প্রত্যয়নপত্র এবং আবেদনপত্র নিয়ে সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে নিয়োগপত্র দিতে হবে। যার মধ্যে গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসমূহের নিয়ম-নীতি উল্লেখ থাকবে।

৩. শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে শুধু শ্রমিক কল্যাণ রশিদের মাধ্যমে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আদায় ব্যতীত, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সকল অবৈধ চাঁদা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বর্তমান মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে যে চাঁদা তোলা হয় তা ক্যাসিনোর থেকেও বড় ব্যবসা। সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শ্রম অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র নিয়ম নীতি অনুযায়ী কল্যাণ তহবিল আদায় করা যাবে।

৪. নিরাপদ সড়কের স্বার্থে সড়ক ও মহাসড়কে ডিভাইডার দিতে হবে এবং সিএনজি অটোরিকশার জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করতে হবে। মহাসড়কের পাশে অবৈধ বাজারব্যবস্থা নির্দিষ্ট স্থানে সরাতে হবে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. জেব্রা ক্রসিং ওভারব্রিজ ছাড়া যত্রতত্রভাবে রাস্তা পারাপার আইন করে বন্ধ ঘোষণা করতে হবে এবং অস্থায়ীভাবে হলেও নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং এবং স্টপেজ দিতে হবে।

৬. শ্রমিক ও যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য টার্মিনাল ভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত অর্ধেক বেতনে পড়ালেখার সুযোগ করে দিতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/২২নভেম্বর/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :