করোনা চিকিৎসায় পুলিশে 'হোমিও চিকিৎসক' নিয়োগ

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ০৯:০৩ | প্রকাশিত : ২৮ মে ২০২০, ২১:৫২

বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাস তথা কোভিড-১৯ প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরাও। ছোঁয়াচে এই রোগের বিস্তার ঠেকাতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘সতর্ক’ থেকেও সংক্রমণ এড়াতে পারছেন না তারা।

পুলিশে এই পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতি বাহিনীটির জন্য হোমিও চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি। তবে তাদের নিয়োগটি সম্পূর্ন চুক্তিভিত্তিক বলে জানা গেছে। এ মাসেই তারা সেবা দিতে শুরু করবে বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্র ঢাকা টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে পুলিশে ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্ত। এরই মধ্যে বাহিনীটির ১৫ জন সদস্য মারা গেছেন।

পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের সদস্যই বেশি। এছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার একজন, পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার আটজন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ১৯ জন, সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ২০ জন, ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ৯৮ জনসহ বাকিরা এসআই, এএসআই এবং কনস্টেবল আক্রান্ত হয়েছেন।

হোমিও চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে সূত্রটি জানায়, ইতালি, ভারত ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা উপসর্গে 'হোমিওপ্যাথি' ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। দেশেও এই ওষুধটির চাহিদা রয়েছে। হোমিও চিকিৎসার সঙ্গে জড়িতরা করোনার উপসর্গ দেখা দিলে কয়েকটি ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিচ্ছে। তাই পুলিশে অদৃশ্য ভাইরাসটিতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় হোমিও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত করোনা মোকাবিলার কোন প্রতিষেধক তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে করোনা ভাইরাস তার জেনেটিক কাঠামো পরিবর্তন করে। তাই করোনার কোন প্রতিষেধক এখনও তৈরি করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে এরমধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ, ওষুধের সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের বাজারে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকলে প্রয়োজনে ইতালি কিংবা জার্মানি থেকে আমদানিরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছে। যে কোন সময় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আর চিকিৎসক নিয়োগও হবে ঠিকাদারের মাধ্যমে। যা সম্পূর্ন চুক্তিভিত্তিক।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগ-প্রতিরোধে হোমিওপ্যাথি ওষুধের কার্যকারিতা থাকায় পুলিশে তা প্রয়োগ করা হচ্ছে। এসব চিকিৎসকরা পুলিশের ঢাকা কেন্দ্রীয় হাসপাতাল, করোনা চিকিৎসায় ভাড়া করা বেসরকারি ইমপালস্ হাসপাতালে ছাড়াও বিভাগীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দিবে। তবে সম্পূর্ন বিষয়টি এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না।

হোমিও চিকিৎসকরা বলছে, করোনার যা উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা করলে এই প্রাণসংহারী অচেনা ভাইরাস অনেকটাই প্রতিহত করা সম্ভব। আর সেটা করতে হবে 'ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের' মাধ্যমে। কারণ করোনার প্রাথমিক উপসর্গ হালকা জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট বা ব্লাডক্লড করে যাওয়ার মত ক্ষেত্রে প্রচুর ওষুধ আছে হোমিওপ্যাথিতে। এক কথায় বলা যায়, আগে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করার ওষুধ যেমন আছে, তেমনি উপসর্গ দেখা দিলে বা করোনা যদি পজেটিভ হয়, সেসব ক্ষেত্রেই হোমিওপ্যাথিতে ওষুধ আছে।

জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পুরো বিষয়টি প্রস্তুতি করা হচ্ছে। একজন সংসদ সদস্যও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।

দায়িত্ব পাওয়া অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এ বিষয় জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'হতে পারে। আমরা তো সকল ধরনের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটা তো খারাপ কিছু না। তবে আমি পুরো বিষয়টি জানি না, জানতে হবে।'

হয়ত নিয়োগ হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'হয়ত নিয়োগ দিচ্ছে। সরাসরি তো আর হোমিও চিকিৎসা নিয়োগ দিতে পারবে না। তবে চুক্তিভিত্তিক দেওয়া হতে পারে।'

পুলিশ ছাড়া অন্য কোন সংস্থার জন্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, 'এখনও জানি না।'

পুলিশে আক্রান্তদের সুচিকিৎসার জন্য সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন বাহিনী প্রধান ড. বেনজীর আহমেদ। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে 'বিশেষ টিম' গঠন করা হয়েছে। যারা সশরীরে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সবার খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৮মে/এসএস/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :