বাজেট প্রত্যাখ্যান করল বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০২ জুলাই ২০২০, ১৬:২৭

সদ্য পাস হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া-পাওয়া এবং নিজেদের সুপারিশের কোনো মূল্যায়ন হয়নি দাবি করে বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটির, দাবি এ বাজেট গতানুগতিক ও অবাস্তবায়নযোগ্য।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জনগণের কাছে ন্যূনতম জবাবদিহিতাহীন, আমলাচালিত, ক্রোনি ক্যাপিটালিস্ট সরকারের কাছে এমন বাজেটই প্রত্যাশিত। এই বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’

বৃহস্পতিবার অনলাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

এর আগে, বুধবার বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের সামনে বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ করেন। তারাও বাজেট প্রত্যাখ্যান করেন।

দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল পাস হওয়া বাজেটের নানা দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে করোনার কারণে বৈরী অবস্থার কারণে মানুষের জীবন জীবিকা কিভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে সঠিক নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, এসএমই, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে এদেশের জনগণের মাঝে সীমাহীন হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের কারণে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতাহীন একটি একদলীয় সরকারের আচরণে কাল্পনিক সাফল্যের দিবাস্বপ্ন দেখানোর অপপ্রয়াসই স্বাভাবিক।’

বিএনপির মহাসচিবের অভিযোগ, ‘এবারের বাজেট করোনার সময়ে বীভৎস স্বাস্থ্য সংকটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেওয়ার বাজেট। এই বাজেট করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া কোটি কোটি অনাহারী মানুষকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার বাজেট। এই বাজেট কৃষিকে ধ্বংস করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলার বাজেট। এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার না করে আরও গভীর মন্দায় ফেলে দেওয়ার বাজেট, এই বাজেট দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার বাজেট।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার বাংলাদেশকে একটি লুটেরা আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চলেছে। এ বাজেটে লুটপাটকারী, ধনিকশ্রেণি ও আমলাতন্ত্র-নির্ভর অর্থনৈতিক দর্শনের আলোকে প্রস্তুত হয়েছে এবং তাদেরই স্বার্থরক্ষা করা হয়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, ’আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, খসড়া বাজেট পেশের পর গত ১২ জুন আমরা বিএনপি’র পক্ষে বাজেট প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। সে সময়ে আমরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কর আরোপের বিষয়ে আমাদের অভিমত জানিয়েছিলাম। কিন্তু অর্থমন্ত্রী পাশকৃত বাজেটে সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া-পাওয়া এবং আমাদের সুপারিশের কোনও মূল্যায়ন করেনি। সরকারের বিগত বাজেটগুলোর মতো এ বাজেটেও লুটেরা সরকারের ধনিকশ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। এ বাজেট মানুষকে অসৎ হবার প্ররোচনা দেওয়ার বাজেট।

বাজেট প্রত্যাখ্যান করে দল থেকে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “প্রতিবাদ কর্মসূচি নির্ভর করে সময় ও কালের উপরে। এখন যে সময়টা চলছে এ সময়ে কোনো কর্মসূচি দেওয়াটা খুবই কঠিন। আমরা তো আমাদের বক্তব্য বলে যাচ্ছি। আমাদের নেতা-কর্মী তাদেরকে বাঁচানোটা আমাদের দায়িত্ব। ইতিমধ্যে আমাদের প্রায় ৭৬ জনের বেশি নেতা-কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাদের অসংখ্য কর্মী আক্রান্ত হয়েছে। এমন কোনো কর্মসূচি আমরা করব না সেখানে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

বাজেট পাসের পরদিন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল লন্ডনে যাওয়ার সমালোচনাও করে তিনি বলেন, পরীক্ষার কিটের অভাবে, হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে দেশের মানুষ মারা যাচ্ছে। আর অর্থমন্ত্রী গেলেন বিদেশে - এটা জনগণের সঙ্গে মশকরা ছাড়া আর কিছু না।

করোনা চিকিৎসার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার বলেছিল কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে সে একজন সরকারি রোগী। ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রত্যেককে বিনামূল্যে করোনা টেস্ট করা হবে। বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলোতে বিনামূল্যে পিসিআর পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে এ শর্তে যে তারা রোগীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেবে না। অথচ সংক্রমণ যখন বৃদ্ধি পেল এমন এক মোক্ষম সময়ে এসে সরকার করোনা টেস্ট ফিস ২০০ ও ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সরকার পরিচালনাধীন ল্যাবরেটরিতে এ জাতীয় ফি আদায় সারা বিশ্বেই বিরল। দক্ষিণ এশিয়ার কোনও দেশই সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে করোনা পরিক্ষার জন্য কোনও ফি নেয় না। এমনকি নেপালে সরকারিভাবে পরীক্ষার ব্যয় বহন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিটি করোনা টেস্টের জন্য নেপাল সরকারই ৫৫০০ টাকা পরিশোধ করছে। অথচ আমাদের দেশে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা টেস্ট ব্যয় জন প্রতি ৩৫০০ টাকা; বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়। কি অমানবিক সরকার এটি তার একটি উদাহরণ মাত্র।’

(ঢাকাটাইমস/০২জুলাই/বিইউ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :