২০০ বছরের পুরোনো ফৌজদারি আইন নিয়ে গবেষণা, পিএইচডি পেলেন বিচারক তাজুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০২
অ- অ+

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধীনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন জেলা ও দায়রা জজ মো. তাজুল ইসলাম। গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ডিগ্রি দেওয়া হয়।

তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশে মান্ধাতা আমলের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা: বিকল্পের সন্ধানে’। ইংরেজিতে গবেষণার শিরোনাম ‘Archaic Quandary of Criminal Justice System in Bangladesh: Quest for the Alternative’।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে তিনি গবেষণাটি সম্পন্ন করেন। গবেষণায় বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার পুরোনো আইন ও পদ্ধতি পর্যালোচনা করে তা সময়োপযোগী করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের ফৌজদারি আইনগুলো সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে কীভাবে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায় এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির পথ তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ভালো চর্চার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় সংস্কারের সম্ভাবনাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণার মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা-ভোসে) দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাঁর গবেষণাকাজের প্রশংসা করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পিএইচডি অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় ড. মো. তাজুল ইসলাম এ সাফল্যের জন্য সৃষ্টিকর্তা, তাঁর শিক্ষক, গবেষক দল ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান বলেও জানান তিনি।

ড. মো. তাজুল ইসলাম বর্তমানে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিচারিক কর্মজীবন

১৯৮৪ সালের ৩১ জানুয়ারি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তাজুল ইসলাম। ২০০০ সালে এসএসসি এবং ২০০২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ২০০৬ সালে এলএলবি (সম্মান) এবং ২০০৭ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিস বিভাগ থেকে মাস্টার্স এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ থেকে বিশেষ ডিগ্রি অর্জন করেন।

তৃতীয় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৮ সালে সহকারী জজ হিসেবে খুলনা জেলা জজশিপে যোগ দেন তিনি। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ঢাকায় এবং যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে ঠাকুরগাঁও, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা জজশিপেও কাজ করেছেন তিনি। কর্মজীবনে বিভিন্ন আদালতে মামলাজট কমানো ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২২ সালে ৫৫টি হত্যা মামলা নিষ্পত্তি করেন তাজুল ইসলাম। এটিকে ওই সময়ে তাঁর বিচারিক কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আইন নিয়ে লেখালেখি

বিচারিক দায়িত্বের পাশাপাশি আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে লেখালেখি ও গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত ড. মো. তাজুল ইসলাম। তাঁর লেখা ‘সাংবিধানিক আইনের সহজপাঠ’, ‘Juvenile Delinquency in Bangladesh: Identifying the Causes with Prevention and Rehabilitation’ এবং ‘বাংলাদেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা: স্বাধীনতার ৫০ বছর’ নামে তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

শিশু আইন নিয়ে লেখা তাঁর বইটি বিশ্বের নয়টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সমসাময়িক আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত কলাম লেখেন।

ব্যক্তিজীবনে তাজুল ইসলাম বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। কর্মব্যস্ততার বাইরে বই পড়া, গবেষণা, লেখালেখি ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন তিনি।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ ব্যাংক
২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম
দেশকে এগিয়ে নিতে বরিশাল অঞ্চলের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে: চীফ হুইপ
সারাদেশে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী