সিনেমা বাঁচাতে সংশ্লিষ্টদের প্রণোদনা দিন: ফারুকী

স্টার সিনেপ্লেক্স সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, সরকারি আর্থিক প্রণোদনা না পেলে তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে! যদি সত্যিই এটা হয়, তাহলে তা হবে আমাদের অলরেডি ধুঁকতে থাকা সিনেমার জন্য একটা বড় ধাক্কা!
প্রিয় সরকারি ভাই-বোনেরা, সারা দুনিয়াতেই সরকার সিনেমা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং থিয়েটারগুলোকে বিভিন্ন রকম প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে! আমি মাঝে মধ্যে ঠিক বুঝি না সিনেমার ব্যাপারে আমাদের কর্তা ব্যক্তিদের ইচ্ছাটা কী! আপনারা যদি সত্যিই সিনেমার ভালো চান, তাহলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রণোদনার আওতায় আনুন!
স্টার সিনেপ্লেক্স স্রোতের বিরুদ্ধে ব্যবসা চালু করে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে এবং বাংলাদেশের সিনেমা প্রদর্শনের একটা বড় জায়গা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে! সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো যখন ধুঁকছিল, সংগত কারণেই তখন হলের সংখ্যা বাড়িয়ে যাচ্ছিল সিনেপ্লেক্স! আমার বিশ্বাস, করোনার থাবা না পড়লে আগামী কয়েক বছরে আমাদের প্রধান শহরগুলোতে সিনেপ্লেক্সের শাখা তৈরি হয়ে যেত! সেই সিনেপ্লেক্স এখন ব্যবসা বন্ধ করার কথা ভাবছে!
বাংলাদেশের তরুণ ফিল্মমেকাররা জানে, বেশি কিছু না কেবল বড় দশটা শহরে স্টার সিনেপ্লেক্স বা অন্য কোনো মাল্টিপ্লেক্স তাদের শাখা করতে পারলে বাংলাদেশের সিনেমা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কারো কাছে হাত পাততে হবে না!
সরকারের উদ্দেশ্যে তাই বলতে চাই, আপনারা চান সিনেমা ঘুরে দাঁড়াক? স্টার সিনেপ্লেক্সকে প্রণোদনা দিয়ে এই ঝড়টা সামাল দিতে দেন!
একই সঙ্গে প্রতিটা জেলা শহরে ন্যূনতম একটা সিঙ্গেল স্ক্রিনকে লোন এবং প্রণোদনা মিলিয়ে একটা প্যাকেজ দিন! তবে এক শর্তে তারা সেই টাকা পাবে! যদি তারা তাদের সিঙ্গেল স্ক্রিনকে মাল্টিপ্লেক্সে রূপান্তরিত করে। যেনতেন ভাবে করলে হবে না! স্থাপনা, প্রদর্শন, এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটা গাইডলাইন করে দিতে হবে সরকারকে! প্রদর্শন গাইড লাইনের মধ্যে উল্লেখ থাকতে হবে শতকরা ৭০ ভাগ প্রদর্শনী হতে হবে বাংলাদেশের ছবির।
কোনো সপ্তাহে বাংলাদেশের ছবি না থাকলেই কেবল ১০০ ভাগ বিদেশি ছবির প্রদর্শন অনুমোদনযোগ্য হতে পারে! এইরকম একটা গাইডলাইন অনুসরণ করে মাল্টিপ্লেক্স বানাতে হবে এবং চালাতে হবে! এর হেরফের হলেই অর্থ সাহায্য বাতিল! জেলা শহরে চালু সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোর বাইরে থেকেও যদি কোনো উদ্যোক্তা মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণ করতে চান, সরকারের উচিত তাকেও এই প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য আবেদনের সুযোগ দেয়া!
সিনেমাকে বাঁচিয়ে রাখা বিষয়ক অনেক ভাঙ্গা রেকর্ড না বাজিয়ে স্রেফ এই কাজটা করেন! দেখবেন পাঁচ বছর পর এর প্রভাবটা কী পড়ে! করবেন দয়া করে এই কাজটা?
লেখক: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্মাতা
ঢাকাটাইমস/১৪আগস্ট/এসকেএস
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













