তিন জেলায় ‘ধর্ষণ’ ও ‘ধর্ষণ চেষ্টা’র অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৪৯ | প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৪৬

ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অব্যাহত প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় দেশের তিন জেলায় ধর্ষণ এবং ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী কিংবা তাদের পরিবারের করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার দিবাগত রাত ও শনিবার মাদারীপুরে তিনজন, পটুয়াখালীতে একজন এবং দিনাজপুরে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেশে ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। এরই মধ্যে সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করেছে। এর মধ্যেই ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

মাদারীপুরে অপহরণ করে গৃহবধূকে আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর পৌরসভার পানিছত্র এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পানিছত্র এলাকার ফারুক হোসেন (৪৬), মহিষেরচর এলাকার তৈয়ব আলী হাওলাদার (৪৮) ও একই এলাকার লিটন হাওলাদার (৪৯)।

এ ঘটনায় নির্যাতিতা বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাতে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শহিদুল ইসলাম তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, সদরের কলাবাড়ি গ্রামের ফারুক হোসেনের ভাড়াটিয়া বাসায় অপহরণ করে এক গৃহবধূকে তিন দিন আটকে গণধর্ষণ করেছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকার একটি বাড়িতে র্যানব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মূলহোতা ফারুক হোসেনকে হাতে-নাতে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শহরের পানিছত্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুই সহেযাগী লিটন ও তৈয়ব আলীকে আটক করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরমার্গারেটে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ শেষে টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার লুট করে ধর্ষকরা।

শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে শাকিল (২০) নামের এক তরুণকে শনিবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে রাতেই স্পিডবোটযোগে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শনিবার সকালে তাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠান।

গৃহবধূর স্বামী দাবি, তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেড় লক্ষাধিক টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার চুড়ি গেছে। এ ঘটনায় তিনজন জড়িত আছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আহম্মেদ বলেন, ‘রোগীর বক্তব্য অনুযায়ী তাকে মারধর এবং ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা তাকে পটুয়াখালী পাঠিয়ে দিয়েছি। ধর্ষণ কিনা তা বলতে পারছি না।‘

এদিকে দিনাজপুরের বিরামপুরে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে নাহিদ ইসলাম ও সুমন আহমেদ এস্তামুল নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার দুপুরে দুজনকে দিনাজপুর আদালতে এবং একই ঘটনায় ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পৌর এলাকার মাহমুদপুর গ্রামের ওই ছাত্রীকে শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় তার বাড়িতে একা পেয়ে নাহিদ ইসলাম তার বন্ধু এস্তামুলকে সঙ্গে নিয়ে ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে বাড়ির পাশে কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ওড়না দিয়ে ওই ছাত্রীর হাত ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ওই রাতে থানায় অভিযোগ করেন। শনিবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

(ঢাকাটাইমস/১৭অক্টোবর/কারই/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :