ডিজেল-পেট্রোল নিতে হুড়োহুড়ি, তবে ফিলিং স্টেশনে বিক্রি সীমিত– জানা গেল কারণ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবের আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন জ্বালানি তেলের ফিলিং স্টেশনে বেড়েছে ক্রেতার ভিড়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় ঢাকার কিছু ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর ও গাবতলী এলাকার একাধিক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেক জায়গায় পাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে গাড়ির লাইন সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান, নির্ধারিত সীমার বেশি জ্বালানি দেওয়া যাচ্ছে না। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ২০০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তারা।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবের আশঙ্কায় অনেক গ্রাহক একসঙ্গে পুরো ট্যাংক ভরে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি বেড়ে গেছে এবং পাম্পগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস্ অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সরকার থেকে তেল বিক্রি সীমিত করার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে কিছু পাম্প মালিক সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমা নির্ধারণ করে তেল দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, গত বছরের মার্চ মাসে যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করা যেত, আজ দুপুর থেকে তার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম উত্তোলন করা যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেতারা একসঙ্গে বেশি পরিমাণ তেল নিতে চাইছেন, এতে পাম্পগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
নাজমুল হক বলেন, অনেকেই দাম বাড়তে পারে বা পরে তেল না পাওয়ার আশঙ্কায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনছেন। এতে স্বাভাবিক চাহিদার বাইরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। “যদি ১০ দিনের মধ্যে ৫০ দিনের তেল কিনে নেওয়ার চেষ্টা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহে চাপ পড়বে,” বলেন তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। এতে ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার, কার-পুলিং ব্যবস্থা উৎসাহিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাম্প মালিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ- এমনটা জানা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরবরাহ ও বিক্রির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































