তেলের সঙ্গে বেড়েছে রাষ্ট্রীয় তিন কোম্পানির শেয়ারের দর

কারো সর্বনাশ আর কারো পৌষ মাস। ঠিক এমন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে। গত শুক্রবার জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ রেকর্ড দাম বাড়ানো হয়েছে। এদিন ডিজেল কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের রেকর্ড দাম বাড়ানো হয়।
জ্বালানি তেলের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে একদিকে দেশের মানুষ বাড়তি আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছে। তবে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির খবর যেন পৌষ মাস হয়ে এসেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পদ্মা, যমুনা এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ার দরে।
রবিবার কোম্পানি তিনটির শেয়ার দর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের প্রথম দুই ঘণ্টায় শেয়ারবাজারে সূচক কমলেও এ তিন কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দিনের শুরুতেই যমুনা অয়েলের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। তিনটি কোম্পানিই বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পের মাধ্যমে তেল বিক্রি করে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের প্রথম দুই ঘণ্টায় শেয়ারবাজারে সূচক কমলেও এ তিন কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রবিবার পদ্মা অয়েলের শেয়ার দর ২০৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৫ টাকা ২০ পয়সা বা ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ২১৪ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়ায়। যমুনা অয়েলের শেয়ার দর ১৬৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সাড়ে ৪ টাকা বা ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৭৩ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়ায়। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ার দর ২০২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সাড়ে ৪ টাকা বা ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৭৩ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়ায়।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়বে এ আশায় দিনের শুরুতে এসব শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বেশ আগ্রহ দেখা যায়।
বিনিয়োগকারীদের ধারণা, তেলের দাম বাড়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে এর প্রভাব পড়বে। যা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। আশা করা যাচ্ছে যতদিন তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে ততদিন এ কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরও বাড়বে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দেশে যে হারে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে তা অযৌক্তিক। এর ফলে অনেক বড় একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমস্ত কিছুর ওপর। যা আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করতে শুরু করেছি।’
তেলের দাম বাড়ার খবরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়াকে কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা শুধুমাত্র বিনিয়োগকারীদের ইমোশনের (আবেগ) কারণে হয়েছে। তারা মনে করেছে যেহেতু তেলের দাম বেড়েছে তাই তাদেরও লাভ হবে, যা একটি ভুল ধারণা। বাস্তবতা হচ্ছে তেলের দাম বাড়ায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি আগের তুলনায় আরো কমবে।’
তেলের দাম আর শেয়ারের দাম যা-ই বাড়ুক এতে লাভ কেবল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উল্লেখ করে এ পুঁজিবাজার বিশ্লেষক বলেন, ‘যে তিন কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে তাদের তো ( কোম্পানির) কোনো লাভ নেই। কারণ তারা ডিস্ট্রিবিউটর (বিতরণকারী)। তারা কমিশনের বিনিময়ে বিপিসির তেল বিতরণ করে থাকে। যত বেশি বিক্রি করতে পারবে তত বেশি কমিশন পাবে। কিন্তু তেলের দাম বাড়ায় বিক্রি আগের তুলনায় কমবে, ফলে কমিশনও কমবে। তাই আবেগী বিনিয়োগকারীদের আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে।’
রবিবারের বাজারের চিত্র
টানা পাঁচ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর রবিবার মূল্যসূচকের পতন হয়। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮.২৫ পয়েন্ট বা ০.১৩ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৩০৪.০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১.৬৪ পয়েন্ট বা ০.১১ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩৭৬.৮৩ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫.৬৩ পয়েন্ট বা ০.২৪ শতাংশ কমে দুই হাজার ২৫৯.৫৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
এদিন ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৯০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এদিন ডিএসইতে ৩৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৪টির বা ৩২.৬৩ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বাড়ে। দর কমে ১৮৭টির বা ৪৯.২১ শতাংশের এবং ৬৯টির বা ১৮.১৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৫.৯৪ পয়েন্ট বা ০.০৩ শতাংশ কমে ১৮ হাজার ৫৩৪.৯৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এদিন সিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১১২টির, কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টির। রবিবার সিএসইতে ২১ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/০৮আগস্ট/বিএস/এফএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































