বৈষম্যহীন বাংলাদেশে মেজরিটি-মাইনরিটি শুনতে চাই না: জামায়াত আমির  

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ২১:১৯| আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ২৩:৪৫
অ- অ+

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমরা চাই না কেউ আর এই জাতিকে বিভক্ত করুক। আমরা মেজরিটি-মাইনরিটি শব্দ শুনতেই চাই না। বাংলাদেশে যারাই জন্মগ্রহণ করেছেন তারা সকলেই গর্বিত মর্যাদাবান নাগরিক। ‘

শনিবার বিকালে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর ও জেলা শাখা আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, যে বাংলাদেশে প্রতিটি শিশু জন্ম নেয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সে একজন নাগরিকের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবে। সে ধনীর ঘরে জন্ম নিয়েছে না গরিবের ঘরে জন্ম নিয়েছে এটি প্রশ্ন নয়, সে জন্ম নেয়ার পর তার চারটি অধিকার রাষ্ট্রকে দিতেই হবে। এক নম্বর অধিকার হচ্ছে তার খাওয়া-বাঁচার অধিকার। দুই নম্বর তার চিকিৎসার অধিকার, তিন নম্বর তার শিক্ষার অধিকার, চার নম্বর হচ্ছে তার কাজ পাওয়ার অধিকার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না কেউ আর এই জাতিকে বিভক্ত করুক। আমরা মেজরিটি, মাইনরিটি শব্দ শুনতেই চাই না। বাংলাদেশে যারাই জন্মগ্রহণ করেছেন তারা সকলেই গর্বিত মর্যাদাবান নাগরিক। ধর্ম যার যার, দল যার যার, প্রিয় দেশটি আমাদের সবার। সুতরাং সকল ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে তাদের ধর্মীয় উপাসনা তারা করবে। এখানে অন্যের ধর্মের কেউ তাদের দিকে চোখ রাঙাবার সাহস করবে না। যদি মুসলমানদের মসজিদে পাহারা দেবার প্রয়োজন না হয় তাহলে হিন্দুদের মন্দিরেও প্রশ্ন উঠবে না। তারা শান্তিতে সেখানে তাদের উপাসনা করবে।’

ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘২০০৯ সালে বিডিআরের হেডকোয়ার্টার পিলখানায় যে ৫৭ জন চৌকস দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই দেশে জুলুমের রাজত্ব শুরু হয়েছিল। যার সমাপ্তি হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট; যেটাকে আমরা জুলাই এবং আগস্ট বিপ্লব বলছি। সেখানে শত শত যুবককে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, মেরুদণ্ডে গুলি করে অবশ করে দেওয়া হয়েছে। যারা আর কোনোদিন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বেশি বেশি করে বলতেন আর ফেরি করতেন, তারাই এদেশের যুবকদের জীবন্ত শহীদে পরিণত করেছেন।’

তিনি বলেন, সাংবাদিক বন্ধুরা আমাকে প্রশ্ন করেছেন এই আন্দোলনে আপনাদের কতজন শহীদ হয়েছেন। আমি বলেছি, আমি কিন্তু বলবো না। তারা বলেছে, জানলে বলবেন। আমরা বলেছি, শহীদদের আমরা কোনো দলের অংশ বানাতে চাই ন। আমরা এই শহীদদের জাতির গর্ব হিসেবে দেখতে চাই। তারা আমাদের জাতীয় সম্পদ, জাতীয় বীর। সুতরাং আমরা দলীয় ভিত্তিতে ভাগ করার পক্ষে নই।’

জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা ওই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেই বাংলাদেশে কোনো বিচারকের চেয়ারে কোনো দুর্বৃত্ত ঘুষ খাওয়ার চিন্তা করতে পারবে না। শ্রমিকদের তার ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার পর, বেতনের জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে না। সেখানে শ্রমিকের সঙ্গে মালিকের বন্ধুর মতো সম্পর্ক হবে। আমরা এই বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, তারুণ্যনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা পাশে থাকবেন, ওয়াচডগ হিসেবে।’

জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া শহর শাখার আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী। আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী জয়পুরহাট জেলা শাখার আমীর ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ, সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা শাহীনুর আলম।

এর আগে সকালে একই স্থানে শহর জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে ৪ হাজার ৪৭ জন রুকনের গোপন ব্যালটের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বগুড়া শহর জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল এবং বগুড়া জেলা জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার। তাদেরকে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সংগঠনের সাংবিধানিক ধারা অনুযায়ী শপথ প্রদান করেন।

(ঢাকা টাইমস/২৬অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঢাকায় মিছিল শেষে ফেরার পথে সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
পুশ ইন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে মিছিল, ফেরালো পুলিশ
শেষ মুহূর্তে স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা
মোহাম্মদপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, অবস্থা গুরুতর
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা