সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়, এক বছরে বেড়েছে ৩৮০০ কোটি

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:১১
অ- অ+

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে (সুইস ব্যাংক) এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বেড়েছে। এ নিয়ে ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটিতে বাংলাদেশি গ্রাহকদের অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্র্যাংক।

বৃহস্পতিবার সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই জমার পরিমাণ প্রতি ফ্র্যাংক ১৫২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার সমান।

তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে কারা এই অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা রেখেছেন সে তথ্য েউল্লেখ করা হয়নি। সুইস ব্যাংক তার কোনো আমানতকারীর তথ্য কখনো প্রকাশ করে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকে জমার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

ভারতের আমানত ২৭ কোটি কমে ৩২৩ কোটি, পাকিস্তানের আমানত ৩৮ কোটি, নেপাল ৩১ কোটি এবং বাকি দেশের আমানত লাখের ঘর ছাড়ায়নি।

বাংলাদেশিদের আমানত

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের স্থিতি ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্র্যাংক, যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ফ্র্যাংক।

২০২৩ সালে ছিল ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্র্যাংক। ২০২২ সালে ছিল ৫ কোটি ৫৩ লাখ ফ্র্যাংক। তবে এর আগে ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের স্থিতি ৮৭ কোটি ১১ লাখ ফ্র্যাংক ছিল। এটি এ যাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এছাড়াও ২০২০ সালে ছিল ৫৬ কোটি ২৯ লাখ ফ্র্যাংক।

স্বর্ণালংকার, শিল্পকর্ম এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র জমা রাখলে তার আর্থিক মূল্যমান হিসাব করে আমানতে যোগ হয় না।

যেভাবে টাকা পাচার হয়

মূলত কয়েকটি মাধ্যমে টাকা পাচার হয়। এর মধ্যে রয়েছে আমদানিতে মূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং), রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং), হুন্ডি এবং ভিওআইপি ব্যবসা। এছাড়া বড় বড় ঘুস লেনদেন হয় দেশের বাইরে ডলারে, যা পাচারকৃত টাকারই অংশ। গত কয়েক বছরে সরাসরি বিদেশে লাগেজ ভর্তি করে ডলার নিয়ে যাওয়ার তথ্যও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথম অবস্থানে যুক্তরাজ্য, দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র

সুইস ব্যাংকে আমানত রাখার দিক থেকে এ বছর প্রথম অবস্থানে যুক্তরাজ্য। ২০২৫ সালে দেশটির আমানতের পরিমাণ ১৮ হাজার ৩৯০ কোটি ফ্র্যাংক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭ হাজার ৩৬৫ কোটি, সিঙ্গাপুর ৩ হাজার ১৫৭ কোটি, চীন ১ হাজার ২৫ কোটি ফ্র্যাংক, রাশিয়া ৮৫৯ কোটি, জাপান ৯৫৩ কোটি ও মালয়েশিয়া ২০৪ কোটি ফ্র্যাংক।

বাংলাদেশিদের সুইস ব্যাংকে জমা বিপুল অর্থের পুরোটাই পাচার করা বলে নিশ্চিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা।বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরশাসনের পতনের পরেও অর্থ পাচার থামেনি। এ অবস্থার উত্তরণে সরকারকে কঠোর হতে হবে। একদিকে পাচার বন্ধ অপরদিকে আগে পাচার হওয়া টাকা ফেরানো দুদিকেই জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন গণমাধ্যকে বলেন, বৈধ অনুমোদন নিয়ে কেউ সুইস ব্যাংকে টাকা রাখেনি। এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। তবে অর্থ পাচার ঠেকাতে এবং আগের পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি।

পাচারের অর্থ ফেরত আনতে সুইস ব্যাংকের সঙ্গে কোনো এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) নেই বলে জানান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন। তবে অর্থ পাচারের বিষয় নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থা এগমন্ড গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের এমওইউ আছে।

বাংলাদেশি আইনে কোনো নাগরিকের বিদেশি ব্যাংকে আমানত রাখার সুযোগ নেই। টাকা নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এখন পর্যন্ত কাউকে বিদেশে টাকা জমা রাখার বিশেষ অনুমোদনও দেওয়া হয়নি। এছাড়া কোনো প্রবাসীও সরকারকে জানাননি যে, তিনি সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছেন। ফলে সুইস ব্যাংকে জমা হওয়া পুরো টাকাই দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮জুন/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের গাড়িতে গুলি, নিহত ১
হজ শেষে দেশে ফিরছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, ৫৮৮ জনের মৃত্যু
বিশ্বকাপে নক আউট পর্বে প্রথম দল হিসাবে মেক্সিকো
ইতিহাস গড়ল কানাডা, ড্রেসিংরুমে ছুটে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা