এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের টার্গেট করে গুপ্তচরবৃত্তির ফাঁদ, সতর্কবার্তা

জুলকারনাইন খান সায়ের
  প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০২৬, ০০:৫৮
অ- অ+

আপনি যদি এশিয়ার কোন দেশে (বিশেষ করে পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, চীন, ভিয়েতনাম, নেপাল) অধ‍্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, অথবা বাংলাদেশে বসবাসকারী নাগরিক যারা ফটোগ্রাফি, ড্রোন অপারেশন অথবা উপরে উল্লিখিত দেশ সমূহে নিয়মিত ট্রাভেল ট‍্যুর পরিচালনার সাথে যুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ‍্যই মনোযোগ সহকারে এই লিখাটি পড়ুন।

সম্প্রতি দুটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে জানা গেছে যে উপরোক্ত দেশ সমূহে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশে বসবাসরত উল্লিখিত পেশার নাগরিকদের টার্গেট করে সেসব দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান এবং সীমান্ত এলাকার ছবি, ভিডিও এবং ড্রোন ফুটেজ সংগ্রহ করছে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।

যে পদ্ধতিতে তারা এই কাজটি করছে, সেটা অনেকটা এমন, প্রথমে পাকিস্তান, নেপাল বা থাইল্যান্ডের নাগরিক ও সেসব দেশে ট্যুর অপারেশনের সাথে জড়িত এমন ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে আপনার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করবে। এরা মূলত তাদেরকেই টার্গেট করে যারা উপরের দেশগুলোতে অধ্যয়নরত আছেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন, বা এই দেশগুলোতে ট্যুরিস্ট গ্রুপের সাথে যাতায়াত করেন এবং সেসবের ছবি নিজ প্রোফাইল ছাড়াও বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপে নিয়মিত শেয়ার করে থাকেন।

প্রাথমিকভাবে টার্গেটকে বাছাই করার পর তারা আপনার সাথে ইনবক্সে যোগাযোগ করবে, এবং জানাবে যে আপনার পরিচালিত ট্যুর বা ছবি/ফুটেজ তাদের বেশ পছন্দ হয়েছে এবং তাদের বাছাই করা কিছু ট‍্যুর লোকেশন (প্রথম ধাপে পর্যটনের জন্যে বিখ্যাত) এলাকার ছবি/ফুটেজ পাঠাতে এবং বিনিময় প্রচলিত রেটের চাইতে অধিক পেমেন্ট করা হবে, এমন নিশ্চয়তা প্রদান করে। প্রথম ধাপে আপনি ছবি/ফুটেজ পাঠানোর আগেই অর্ধেক টাকাও পরিশোধ করা হয়, আর পাঠানোর পর প্রায় সাথে সাথেই বকেয়া অর্থ পরিশোধ হয়ে যায়।

প্রথম ধাপে বিশ্বস্ততার পরিচয় ও সম্পর্ক স্থাপনের পর, এবার তারা আপনাকে তাদের মূল টার্গেট প্রদান করবে যা সাধারণত সংরক্ষিত কোন এলাকা — সেটা হতে পারে চীন-তিব্বত সীমান্ত বা বেইজিং শহরের কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থান কিংবা ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকা অথবা থাইল্যান্ড মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা বা স্পর্শকাতর কোন সামরিক এলাকার বেষ্টনী ঘেঁষা এলাকা বা নির্মাণাধীন ট্রেন স্টেশন অথবা বন্দর এলাকা।

আর বিপদটা ঘটে তখনই, সংরক্ষিত এসব এলাকার ছবি তোলা বা ভিডিও ফুটেজ ধারণের পর আপনি যে কোন সময় সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হতে পারেন।

সম্প্রতি চীনে ২ জন বাংলাদেশী ছাত্র এবং আরো দুটি দেশে অন্তত একজন করে বাংলাদেশি নাগরিককে এসব ঘটনায় আটক করা হয়েছে। পৃথক দুই দেশে আটক দু'জন নাগরিকের খোঁজ পাওয়া গেলেও নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ছবি এবং ড্রোন ফুটেজ ধারণের সময় আটক দুই বাংলাদেশি ছাত্রের খোঁজ পাওয়া যায় প্রায় ৪ মাস পর (ডিসেম্বর ২০২৫ এ আটক করা হয়)।

এই দুই বাংলাদেশি ছাত্র এখনো চীনা জেলে আটক রয়েছে এবং এসপিওনাজ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে চীনা আইন অনুযায়ী তাদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেয়া হতে পারে।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে এই পোস্টে এমন দু'জনের প্রোফাইল ও কথোপকথন সংযুক্ত করা হয়েছে যারা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের গুপ্তচর এবং ভুয়া প্রোফাইলের মাধ্যমে কিভাবে তারা যোগাযোগ করে এধরনের কাজে সংযুক্ত করার চেষ্টা করে।

বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অনুগ্রহ করে সত‍্যতা যাচাই ব্যতিত এমন যে কোন কাজের সাথে জড়িত হওয়া থেকে সাবধান থাকুন। দেশে-বিদেশে অবস্থানকালে যে কোন রকমের স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত এলাকার ছবি, ভিডিও, ড্রোন ফুটেজ সংগ্রহ করা হতে বিরত থাকুন।

যে উদ্দেশ্যে এমন করা হচ্ছে তার কারণ বুঝতে বেশি বেগ পেতে হয়না, চীন তাদের ইউনান প্রদেশ সহ বিভিন্ন প্রদেশে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছে — পর্যটন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে। এছাড়াও চীন সহ দক্ষিন এশিয়ার অন্যান্য দেশে চিকিৎসা গ্রহণ , শিক্ষা ও ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রের এই দুরভিসন্ধিমূলক কার্যক্রমের কারন একটাই — বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্যান্য এশীয় দেশগুলোর সামনে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে সম্পর্কের অবনতি ঘটানো ও আবারো তাদের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করা।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২৫০৮ টাকা
শাহজালাল মাজারের দানবাক্স সিলগালা
ডিওএইচএসে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যা করেন গাড়িচালক, উদ্দেশ্য সোনা লুট: র‍্যাব
প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী টুকুর আত্মীয় পরিচয়ে পুলিশে চাকরির টোপ, ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে প্রতারক গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা