রিজার্ভ চুরির মামলায় জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, আতিউরসহ বাংলাদেশেরই ১০ জন

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে তা আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, খসড়া চার্জশিটে দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, ভারত, চীন, জাপান ও উত্তর কোরিয়ার নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান জানান, প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার খসড়া অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে চূড়ান্ত আইনি পরামর্শের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, ঘটনা গোপন করা এবং প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তার নাম চূড়ান্তভাবে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি হয়। সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে হ্যাকাররা ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে অর্থ স্থানান্তর করে নেয়। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্টে এবং ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
পরে বানানগত ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থ আটকে যায় এবং ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তা জোবায়ের বিন হুদা। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তে ফিলিপাইন, ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, জাপান ও উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকসহ একাধিক মানি এক্সচেঞ্জ ও ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতিতে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ জানান, ফিলিপাইনে থাকা প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তা ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে গত বছরের ১১ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে ছয় সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত সম্পন্ন করে খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করা হয় এবং চলতি বছরের ১ এপ্রিল তা অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬ জন, শ্রীলঙ্কার ৮ জন, চীনের ৩ জন, ভারতের ৪ জন, উত্তর কোরিয়ার ২ জন, জাপানের ১ জন এবং বাংলাদেশের ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বাংলাদেশি অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিলিপাইনের তালিকায় রয়েছে আরসিবিসি ব্যাংক, বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ও ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। ভারতের চারজন নাগরিক, চীনের তিনজন, শ্রীলঙ্কার একাধিক ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানও অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাইবার আর্থিক অপরাধ, যেখানে আন্তর্জাতিক চক্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে খসড়া অভিযোগপত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
(ঢাকাটাইমস/১৮ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































