চুরি করতে গিয়ে ধরা, বেড়িয়ে এলো ধর্ষণ ও হত্যা রহস্য

পঞ্চগড়ে আটায়ারীতে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের উদঘাটন করেছে পুলিশ। সম্প্রতি ইজিবাইক চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৩) নামে এক যুবক। পরে তার মুঠোফোনে পাওয়া ভিডিওর সূত্র ধরেই বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। পরে নিজেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন পুলিশকে।
অভিযুক্ত রিফাত বিন সাজ্জাদের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রামে। সে ওই এলাকার আকতার হোসেনের ছেলে।
সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী।
তিনি জানান, গত ১৪ জানুয়ারি জেলার আটোয়ারী উপজেলার কিসমত এলাকায় রেললাইনে একটি অজ্ঞাত নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ড হলেও এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারছিল না পুলিশ। এ ঘটনায় দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়, মামলা নং-০১/২৫।
পুলিশ সুপার জানান, এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরও আসামি সাজ্জাদ একের পর এক অপরাধ কর্ম চালিয়ে যেতে থাকে। গত ৮ মার্চ দিবাগত রাতে আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর এলাকার তাহিরুল ইসলামের বাড়িতে ইজিবাইক চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে সাজ্জাদ। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উত্তমমাধ্যম দেয়। তার মোবাইলে একটি নারীকে বেধে রাখার ভিডিও দেখতে পান তারা। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে অজ্ঞাত ওই নারীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
তিনি বলেন, আসামি অজ্ঞাতনামা ওই নারীকে ১৩ জানুয়ারী রাতে আটোয়ারী থানাধীন কিসমত রেলগেটের পশ্চিম পার্শ্বে শাপলা কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের দরজাবিহীন একটি কক্ষে ও পরবর্তীতে কিসমত রেলগেটের উত্তর-পূর্ব দিকে জনৈক আলমের সুপারি বাগানের মধ্যে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণ শেষে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পরবর্তীতে ছুরি দিয়ে শরীর বিভৎসভাবে ক্ষত-বিক্ষত করে রুহিয়া-কিসমত সেকশন রেল লাইনের ওপর ফেলে রাখে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আটোয়ারী থানায় ধর্ষণের পর হত্যা ও চুরির দুটি মামলা হয়েছে। যার একটি আটোয়ারী থানার মামলা নং ০৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ৯(২) এবং ধারা ৩৭৯/৪১১ পেনাল কোড, ১৮৬০ রুজু করা হয়। এসব মামলায় রবিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
(ঢাকাটাইমস/১০মার্চ/এমআর)

মন্তব্য করুন