‘আত্মরক্ষায়’ ভারতের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতশাসিত কাশ্মিরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যেকোনো সময় সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে’ সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, ফোনালাপে ভারতের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ‘ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে’ সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন হেগসেথ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।’ তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে আছে এবং তারা ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে।
অপরদিকে রাজনাথ সিং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠনকে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করার ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের। দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের পরিচয় প্রকাশ হয়েছে। তারা বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছে এবং এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশ্ব এই সন্ত্রাসবাদ থেকে আর চোখ বন্ধ করে রাখতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য স্পষ্টভাবে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে সন্ত্রাসবাদের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের নিন্দা করা এবং এর বিরুদ্ধে আহ্বান জানানো গুরুত্বপূর্ণ।’
এর আগে বুধবার ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য মতে, মার্কো রুবিও ভারতকে উত্তেজনা কমাতে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করতে বলেছেন। তিনি পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানির জন্য শোক প্রকাশ করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সাথে সহযোগিতা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে জয়শঙ্কর এক্স হ্যান্ডেলে তার অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি বুধবার তার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পহেলগাম হামলার বিষয়ে কথা বলেছেন। এসময় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ‘পহেলগাম হামলার দায়ীদের, তাদের পেছনে থাকা সমর্থকদের এবং পরিকল্পনাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিলের ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই পর্যটক ছিলেন এবং ২০০০ সালের পর থেকে এটি বিতর্কিত হিমালয় অঞ্চলে সবচেয়ে মারাত্মক সশস্ত্র হামলাগুলোর মধ্যে একটি। এই হামলায় ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। যদিও এই দাবি ইসলামাবাদ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে টানা ৭ম দিনের মতো গুলি বিনিময়ের চলছে। জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা, উরি এবং আখনুর সেক্টরে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি চালাচ্ছে দুপক্ষই।
(ঢাকাটাইমস/০১মে/এমআর)

মন্তব্য করুন