ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে বিফট প্রকল্প সংশোধনে চাপ ও অসঙ্গতির অভিযোগ!
বুয়েটে জমি কম, বরাদ্দ বেশি: বিফট প্রকল্প সংশোধন ঘিরে বিতর্ক

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির (বিফট) প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প সংশোধন এবং প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ক্ষেত্রে নজিরবিহীন তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরেছেন প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি। পোস্টে তিনি বিভিন্ন নথিপত্র সংযুক্ত করছেন।
ফেসবুক পোস্টে সামি দাবি করেন, প্রকল্প সংশোধনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, তার বন্ধু এএসএম আশরাফ—যিনি Enhancing Digital Government and Economy (EDGE) বা ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি উন্নয়ন (এজ) প্রকল্পের পরামর্শক—এবং শফিক উদ্দিন ভুঁইয়া যৌথভাবে কাজ করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩০ দিন পর নির্বাচন থাকলেও অজানা কারণে প্রকল্পের সংশোধনী ও ব্যয় বৃদ্ধির জন্য অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সামি আরও লেখেন, প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে কাজের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে পত্র দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ৭০ একর জমিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ রেখে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) মাত্র ১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে ২ হাজার কোটি টাকা নতুন বরাদ্দের জন্য তদবির চলছে। বুয়েটের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) সু-কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে সামি বলেন, সংশোধনী প্রস্তাবে অসংখ্য অসঙ্গতি রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে ‘ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’ বলা হলেও বুয়েট ক্যাম্পাসে বুয়েটের স্টাফদের জন্য পুনর্বাসন ভবন কেন নির্মাণ করা হবে, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। বুয়েটে শিক্ষকদের আবাসন থাকা সত্ত্বেও প্রকল্প থেকে তাদের জন্য স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্যাকাল্টি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণে অর্থ বরাদ্দের যৌক্তিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন (প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান ৩৫/৩৬)।
সামির পোস্টে পরিকল্পনা কমিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদস্থ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ডিপিপি সংশোধনের প্রস্তাব ডেস্ক অফিসারের কাছে আসার আগেই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা অস্বাভাবিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ডিপিপি যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের আগেই কেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পত্র পাঠানো হলো। সম্প্রতি পিপিআর-২০২৫ প্রকাশিত হওয়ার পরও কেন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজ করা হবে না—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পোস্টে আরও বলা হয়, আইসিটি বিভাগের কোনো পত্রে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি, আবার কোনো পত্রে ২ হাজার ৩শ কোটি টাকা চাওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী বিষয়ে নেতিবাচক মত দিলেও তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন সাংবাদিক সামি।
তিনি লেখেন, পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রায় ১৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয়ে ৩০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩শ কোটি টাকার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা কমিশন বর্তমান প্রকল্প শেষ করে নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করলেও প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ৮ কোটি টাকায় (৩৮৮৯৯২.১৬ লাখ টাকা) উন্নীত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজেই গেছেন।
সামি আরও প্রশ্ন তোলেন, বুয়েটের কোনো শিক্ষক অতিরিক্ত বা ডেপুটেশনে প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউটে সরকারি কাজের জন্য মাসিক ৩ দশমিক ৫ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়ে কোনো সরকারি পরিপত্র আছে কি না। তিনি পরিচালকের জন্য মাসিক ৮ লাখ টাকা বেতনের প্রস্তাব এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৫ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে দুই বছরের অপারেশনাল ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, সার্বিক কাজের তদারকির জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী মসিউর রহমান হুমায়নের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শফিক উদ্দিন ভুঁইয়াকে প্রকল্পের উপ–প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব পলিসি পরামর্শক থাকাকালে অতিরিক্ত সচিব কামরুজ্জামানের সঙ্গে সরকারি নিয়মের বাইরে গাড়ি ও তেল ব্যবহারের বিষয়ে দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন সামি। ওই সময় ভুয়া ভাউচার ও বিলের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তিনি তার পোস্টে তুলে ধরেন।
তবে জুলকারনাইন সায়ের খান সামির পোস্টের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












