কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও বরিশালে নির্বাচনি প্রচারণাকালে সংঘর্ষ, আহত ৪২

কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও বরিশাল জেলার পৃথক নির্বাচনি প্রচারণাকালে সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিভিন্ন সময় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জে বিএনপি ও যুবদলের সংঘর্ষ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাতশালা গ্রামে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সমর্থনে একটি নির্বাচনি জনসভা চলছিল। অসুস্থতার কারণে তিনি জনসভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। সভার শেষ পর্যায়ে কাস্তুল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম কিসমতের নেতৃত্বে একটি মিছিল সভাস্থলে পৌঁছালে চেয়ারে বসা নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে যুবদল নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েব খান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সিগঞ্জে মিছিলে হামলা, আহত ২০ জনের বেশি
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় নির্বাচনি মিছিলে হামলার ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে গজারিয়া উপজেলার সোনালী মার্কেট এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন আহতদের সবাইকে নিজের সমর্থক বলে দাবি করেন। প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন বলেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিনের সমর্থনে একটি মিছিল গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে সোনালী মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, তিনি ওই সময় মুন্সিগঞ্জ শহরে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। যারা এ কাজ করেছে, তারা খুবই খারাপ কাজ করেছে। এর দায় তিনি বা তার দল নেবে না।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বরিশালে প্রতীকভিত্তিক কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ
বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শরিকল হাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনি গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের সময় ধানের শীষ প্রতীকের কর্মীরা তার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ফকিরসহ চারজন আহত হন। আহত শাহ আলম ফকিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বিপ্লব বলেন, শরিকল বাজারে লিফলেট বিতরণ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের হাতাহাতি হয়। এতে ধানের শীষের এক কর্মী আহত হন।
পরে উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নির্বাচন প্রচারণা ঘিরে এসব সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
(ঢাকাটাইমস/২৪ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































