যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, হরমুজ প্রণালিতে দুই তেলের ট্যাংকারে আগুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও। হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরান।
রয়টার্স, আল জাজিরা ও আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি স্থাপনা, সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধও কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইনযুক্ত একটি এলাকা অতিক্রম করার সময় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে গত কয়েক ঘণ্টায় প্রণালি দিয়ে অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি ‘অনুপ্রবেশকারী’ জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস কিংবা রাসায়নিক সার রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ইরানের হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন হামলার খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ববাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক শীর্ষ কমান্ডার মোহসেন রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কয়েক দিন হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান এই উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
(ঢাকাটাইমস/১৮ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































