ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনের দিন কাল, যেভাবে দেবেন আপনার ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৪
অ- অ+

বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে, ঐতিহাসিক এই ভোটগ্রহণ হবে শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা ভোট গ্রহণ চলবে।

সারা দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৪৮ লাখ, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন।

ভোট দেওয়ার দিনটি কেবল একটি নাগরিক দায়িত্ব নয়; এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের অন্যতম উপলক্ষ। ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে শুধু পছন্দের প্রার্থী বা দলকে সমর্থনই জানান না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও ভূমিকা রাখেন।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে না। সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো, যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ বা মোবাইল ফোন নেওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

ভোট দিতে যাওয়ার আগে ভোটারদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ, হটলাইন ১০৫, এসএমএস সেবা কিংবা ইসির ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার ভোটার তালিকায় নাম ও ছবি যাচাই করবেন। যাচাই শেষে ভোটারের আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হবে। এরপর প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেবেন—সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা এবং গণভোটের জন্য গোলাপি।

ব্যালট গ্রহণের সময় পেছনে অফিশিয়াল সিল ও প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর রয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে। নির্ধারিত গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে সিল দিতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট আলাদা ব্যালটে দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালট এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে, যাতে কালি অন্য কোনো প্রতীকে না লাগে।

ভাঁজ করা ব্যালট সংশ্লিষ্ট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে। ভোট প্রদান শেষে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকবেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় এবং প্রায় ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এ ছাড়া প্রায় ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ড্রোন, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ব্যাপকভাবে সিসিটিভি ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে। কেন্দ্র পর্যায়ে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর তা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

(ঢাকাটাইমস/১১ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান চৌধুরী: ডিবিপ্রধান
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট, প্রতিশোধ নিতে বন্ধুকে হত্যা; কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন তারেক রহমান
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বড় ছেলেকে ছুরিকাঘাত