প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৮
অ- অ+

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উপকারভোগী পরিবারগুলোকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তাও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে সেই সুযোগ রাখা হয়নি। প্রকৃত উপকারভোগী বাছাইয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক বা দলীয়করণ করা হয়নি। এটি একটি সর্বজনীন কর্মসূচি।

তিনি বলেন, দেশে নগদ অর্থ বিতরণ ব্যবস্থায় অনেক সময় দুর্নীতি দেখা যায়। তবে এ কর্মসূচিতে সে ধরনের অনিয়ম যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে এটিকে বিগত সময়ের বড় উদ্যোগগুলোর একটি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাইলটিং প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা বিতরণের বিপরীতে ১৩ কোটি টাকা বাস্তবায়ন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু করতে গিয়ে ব্যয় কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে কর্মসূচি বড় আকারে বাস্তবায়িত হলে এ ব্যয় ধীরে ধীরে কমে আসবে।

দরিদ্র পুরুষপ্রধান বা নারীবিহীন পরিবার বাদ পড়ার বিষয়টি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে এবং বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় তা পর্যালোচনা করা হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় সারা দেশ থেকে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ডাবল ডিপিং, সরকারি চাকরি, পেনশনসহ বিভিন্ন সুবিধা বিবেচনায় বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়া হবে। নির্বাচিত নারী পরিবারপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেই সুবিধা বাতিল হবে, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিদ্যমান ভাতা বহাল থাকবে।

পাইলট পর্যায়ে কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কিংবা বেতন-ভাতা বা পেনশন পান, তবে সে পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় আসবে না। এছাড়া পরিবারের নামে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন গাড়ি বা এসি) অথবা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও তারা এ সুবিধা পাবে না।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে এ ভাতা জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবেই পাঠানো হবে। আগামী জুন পর্যন্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং ১২ দশমিক ৯২ কোটি টাকা কর্মসূচি বাস্তবায়ন ব্যয়ে ব্যয় হবে।

(ঢাকাটাইমস/১০ মার্চ/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঢাকাসহ দেশের পাঁচ বিভাগে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস
যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান চৌধুরী: ডিবিপ্রধান
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট, প্রতিশোধ নিতে বন্ধুকে হত্যা; কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন তারেক রহমান